,

‘গৃহবধূরাই দেশ গড়েন’, মাসে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের শ্রম: সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি। ১১জুন: তাঁরা বাড়িতে থাকেন। দশভুজার মতো সংসারের সব দিক সামলান। তবু যুগের পর যুগ সমাজ তাদের কটাক্ষ করে – “সারাদিন বাড়িতে বসে কী করো?” এবার সেই গৃহবধূদের সম্মান দিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানাল, একজন গৃহবধূর শ্রম মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনের সমান। তাদের কথায়, গৃহবধূরাই প্রকৃত অর্থে দেশ গড়ে…

নয়াদিল্লি। ১১জুন: তাঁরা বাড়িতে থাকেন। দশভুজার মতো সংসারের সব দিক সামলান। তবু যুগের পর যুগ সমাজ তাদের কটাক্ষ করে – “সারাদিন বাড়িতে বসে কী করো?” এবার সেই গৃহবধূদের সম্মান দিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানাল, একজন গৃহবধূর শ্রম মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনের সমান। তাদের কথায়, গৃহবধূরাই প্রকৃত অর্থে দেশ গড়ে তোলেন।

পথ দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের মামলার শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ এই মন্তব্য করে। আদালত বলেছে, সমাজে গৃহিণীদের ভূমিকা অসীম। অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তারা পালন করেন। এক, গৃহের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে করা। দুই, স্বামী ও সন্তানদের দেখাশোনা। তিন, বাবা-মা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব নেওয়া।

ক্ষতিপূরণের নতুন হিসাব
দুর্ঘটনায় গৃহবধূর মৃত্যু হলে পরিবারকে কত টাকা সাহায্য দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। মোটর দুর্ঘটনা দাবি নিষ্পত্তি আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পথ দুর্ঘটনায় কোনো গৃহবধূর মৃত্যু হলে মাসিক ৩০ হাজার টাকা হিসেবে আলাদা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ তাদের শ্রমের ন্যূনতম মূল্য এই অঙ্ক। তিন বছর অন্তর এই অঙ্ক ১০ শতাংশ করে বাড়াতে হবে।

“দেশের নির্মাতা”
শীর্ষ আদালতের কথায়, গৃহবধূদের শ্রমকে অনেক সময় ছোট করে দেখা হয়। যে নারী নিজের সময় ও সামর্থ্য সংসারের পেছনে ব্যয় করেন, তিনি কিন্তু সেই সংসারের আয়েও বিনিয়োগ করেন। তাই তাদের কাজের সামাজিক ও আর্থিক মূল্য দিতে হবে। বিচারপতির মন্তব্য, “গৃহবধূ না বলে তাকে দেশের নির্মাতা বলা উচিত।”

ক্ষতিপূরণ বেড়ে ৬২.৭৮ লক্ষ টাকা
পাঞ্জাবের ওই গৃহবধূর মৃত্যুতে নিষ্পত্তি আদালত প্রথমে পরিবারকে ২.৪২ লক্ষ টাকা দিতে বলেছিল। পরে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উচ্চ আদালত সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ৮.৪ লক্ষ টাকা করে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বীমা সংস্থাকে মহিলার পরিবারকে ৬২.৭৮ লক্ষ টাকা দিতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *