,

কংগ্রেসমুক্ত ভারতের পর এবার সঙ্কটে আঞ্চলিক দল, জায়গা সঙ্কুচিত হচ্ছে

  বিশেষ প্রতিবেদন: “কংগ্রেসমুক্ত ভারত” বিজেপির এই স্লোগান প্রথম শোনা গিয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার ঠিক চার মাস আগে গোয়ার জনসভায় তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেসমুক্ত ভারত বিজেপির স্লোগান নয়, জনতার সংকল্প”। সেই স্লোগানই পরে বিজেপির আক্রমণের মূল অস্ত্র হয়ে ওঠে। কংগ্রেসকে সরিয়ে নিজেকে গোটা দেশের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে দলটি। আজ…

 

বিশেষ প্রতিবেদন: “কংগ্রেসমুক্ত ভারত” বিজেপির এই স্লোগান প্রথম শোনা গিয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার ঠিক চার মাস আগে গোয়ার জনসভায় তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেসমুক্ত ভারত বিজেপির স্লোগান নয়, জনতার সংকল্প”।

সেই স্লোগানই পরে বিজেপির আক্রমণের মূল অস্ত্র হয়ে ওঠে। কংগ্রেসকে সরিয়ে নিজেকে গোটা দেশের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে দলটি। আজ যখন বিজেপি অনেকটাই কংগ্রেসের জায়গা নিয়ে একদলীয় আধিপত্যের ছবি তৈরি করেছে, তখন সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলো।

সরাসরি লড়াইয়ে জিতেও সঙ্কট
লোকসভা নির্বাচনের হিসাব বলছে, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির জয়ের হার ৭০ শতাংশ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সেই হার মাত্র ৩৩ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের দলের বিরুদ্ধে ৪৫ শতাংশ। ২০১৭ সালের পর থেকে সমাজবাদী দল টানা দুবার বিধানসভা ভোটে হারলেও বিজেপির বিরুদ্ধে এক-এক লড়াইয়ে আঞ্চলিক দলগুলো এখনও শক্তিশালী।

তবু ভাঙন, দলত্যাগ ও জোটের চাপে তারা ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।

ভাঙনের ছবি রাজ্যে রাজ্যে
মহারাষ্ট্র: উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও শরদ পাওয়ারের দল দুটোই উল্লম্বভাবে ভেঙেছে। ভাঙা অংশের নেতারা প্রতীক পর্যন্ত নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন।
বিহার: ২০২৫ সালের বিধানসভা ভোট হয়েছে নীতীশ কুমারের শাসনের নামে। তবু বিজেপি প্রথমবারের মতো নিজের মুখ্যমন্ত্রী বসাতে পেরেছে।
অসম: আসম গণ পরিষদ, যে দল এক সময় অসমীয়া পরিচয়ের পতাকা ধরেছিল, এখন বিজেপির জোটে ছোট সঙ্গী।
পাঞ্জাব: বিতর্কিত কৃষি আইনের কারণে শিরোমণি আকালি দল বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙেছে।
ওড়িশা: বিজু জনতা দলের সঙ্গে কেন্দ্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এখন সেই রাজ্যেও বিজেপি ক্ষমতায়।
পশ্চিমবঙ্গ: সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

এককেন্দ্রিক রাজনীতির পথে বিজেপি
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধানন্দ মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক কুমার সঞ্জয় বলছেন, বিজেপির এখনকার গতিপথ অনেকটা কংগ্রেসের পুরনো এককেন্দ্রিক রাজনীতির মতো। যার লক্ষ্য আঞ্চলিক দল ও আঞ্চলিক নেতাদের দুর্বল করা।

“এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রের হাতে থাকে। তারা জানে, আঞ্চলিক দলগুলোই কেন্দ্রিক দলের পথে বাধা হতে পারে। বিজেপির উত্থানই হয়েছিল জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে কংগ্রেসবিরোধী আন্দোলনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বড় জমায়েতের হাত ধরে”, বলেন অধ্যাপক সঞ্জয়।

তার মতে, এককেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে আঞ্চলিক দলগুলোকে আবার কেন্দ্রিক শক্তির কাছে জড়ো হতে হয়। ১৯৬০-৭০ দশকে সেই জায়গা নিয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। এখন কংগ্রেস সেই জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধী সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ভাবনা জুড়ে দিচ্ছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *