,

২০২৭-এর আগে অসমে ২৮৭টি নতুন টাওয়ার, তবুও বিএসএনএল নিয়ে ক্ষোভ থামছে না

সাংসদ কণাদের চিঠির পর নড়েচড়ে বসল বিএসএনএল, কিন্তু গ্রাহকদের প্রশ্ন — ‘এখন কল ঢুকবে তো?’ বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : বরাক উপত্যকাসহ অসমের বেহাল মোবাইল নেটওয়ার্ক সারাতে অবশেষে বড় ঘোষণা করল বিএসএনএল। ডিজিটাল ভারত নিধির টাকায় রাজ্যে ২৮৭টি নতুন মোবাইল টাওয়ার বসানো হবে। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সবক’টি টাওয়ার চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ…

সাংসদ কণাদের চিঠির পর নড়েচড়ে বসল বিএসএনএল, কিন্তু গ্রাহকদের প্রশ্ন — ‘এখন কল ঢুকবে তো?’

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : বরাক উপত্যকাসহ অসমের বেহাল মোবাইল নেটওয়ার্ক সারাতে অবশেষে বড় ঘোষণা করল বিএসএনএল। ডিজিটাল ভারত নিধির টাকায় রাজ্যে ২৮৭টি নতুন মোবাইল টাওয়ার বসানো হবে। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সবক’টি টাওয়ার চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থকে ২ জুলাই চিঠি দিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএসএনএলের অসম সার্কেলের সিজিএম বিনীত সাক্সেনা।

চিঠিতে সিজিএম লিখেছেন, প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামে ৪জি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। বেসরকারি অপারেটররা লাভের অঙ্ক কষে এসব এলাকায় ঢোকেনি। তাই সরকারি টাকায় বিএসএনএলকেই দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। জমি হস্তান্তর হলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থের লাগাতার চাপ। গত ২৬ মে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট বলেন, দেশ ৫জি-র যুগে ঢুকলেও অসমের বহু এলাকায় এখনও মোবাইল টাওয়ার নেই। থাকলেও নেটওয়ার্ক এত দুর্বল যে কল ড্রপ, কথার মাঝে লাইন কেটে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা। গ্রাম-শহর সব জায়গায় পরিষেবার মানোন্নয়নের দাবি তোলেন সাংসদ।

সাংসদ হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব কণাদ পুরকায়স্থ। গত ডিসেম্বরে বিএসএনএল কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ২০২২ সালের বরাকের বন্যায় বিধ্বস্ত পরিকাঠামোর প্রসঙ্গ তোলেন। জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। তারপরই এই ২৮৭টি টাওয়ারের ঘোষণা এল।

কিন্তু গ্রাহকরা খুশি নন
পরিকল্পনা শুনে ক্ষোভ কমছে না সাধারণ মানুষের। শিলচরের এক গ্রাহকের কথায়, “বিএসএনএলের অবস্থা বলে বোঝানো যাবে না। কলই ঢোকে না। আমি ওপারের কথা শুনি না, ওপারের লোক আমার কথা শোনে না। নেটওয়ার্কের কোনও ঠিক-ঠিকানা নেই। অথচ জিও, এয়ারটেল দিব্যি চলছে। কেন্দ্রের সংস্থা হয়ে বিএসএনএল পারছে না, এর চেয়ে লজ্জার আর কী আছে?”

গ্রাহকদের অভিযোগ, ৫জি-র স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, অথচ বেসিক ভয়েস কলটাই হয় না। বাইশের বন্যার পর দু’বছর কেটে গেলেও পরিকাঠামো ঠিক হয়নি। ৪জি চালু করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিএসএনএল। সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে টাওয়ার বসিয়ে পরিষেবা দিচ্ছে।

২০২৭ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। কিন্তু আজ জরুরি দরকারে যদি কল না ঢোকে, তার দায় কে নেবে? সাংসদের চেষ্টায় টাওয়ার বসার আশা জাগলেও, বর্তমান ভোগান্তি দেখে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বরাকের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *