‘প্রকৃতির জমাদার’ হারগিলা সংরক্ষণে অসম কন্যার লড়াইকে কুর্নিশ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: দেশের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ১৩৫ সংখ্যক ‘মন কী বাত’-এ অসম কন্যা তথা ‘হারগিলা গার্ল’ খ্যাত জীব-বিজ্ঞানী ড০ পূর্ণিমা দেবী বর্মনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিলুপ্তপ্রায় ‘হারগিলা’ পাখি এবং এর সংরক্ষণের জন্য ড০ বর্মনের তৈরি ‘হারগিলা আর্মি’-র মহিলাদের অবদানের কথা সগৌরবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘প্রকৃতির জমাদার’ হিসেবে পরিচিত হারগিলা প্রকৃতিকে পরিষ্কার রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অসমের একাংশ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে একে অমঙ্গল বা অশুভ বলে গণ্য করা হতো, এমনকি বাসা বাঁধা গাছগুলোও কেটে ফেলা হতো। ঠিক সেই সময়ে প্রকৃতিপ্রেমী ড০ পূর্ণিমা দেবী বর্মন এই কুসংস্কার দূর করার দৃঢ় সংকল্প নেন।
২০০৭ সালে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্রী থাকাকালীন তিনি ‘আরণ্যক’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ‘হারগিলা আর্মি’ গড়ে তোলেন। গ্রামের মহিলাদের একত্রিত করে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি দিয়ে তিনি সচেতনতা অভিযান চালান। ফলে একদিন অশুভ বলে তাড়িয়ে দেওয়া হারগিলাই এখন গ্রামের গর্ব ও পরিচয় হয়ে উঠেছে।
২০০৭ সালে যেখানে পচরিয়া অঞ্চলে মাত্র ২৮টি হারগিলার বাসা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ২০০-রও বেশি হয়েছে। ২০,০০০ সদস্য এবং ৪০০ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে ড০ বর্মন হারগিলা সংরক্ষণের কাজ করে চলেছেন।
প্রকৃতি প্রেম ও হারগিলা সংরক্ষণের জন্য দেশ-বিদেশে সমাদৃত ড০ পূর্ণিমা দেবী বর্মন ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছ থেকে ‘নারী শক্তি পুরস্কার’ এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের ‘হোয়াইটলি অ্যাওয়ার্ড’, যা সবুজ অস্কার নামেও পরিচিত, লাভ করেন।
আজ রাজ্য বিজেপির মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র প্রাঞ্জল কলিতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কী বাত’-এ ড০ পূর্ণিমা দেবী বর্মনের কর্মরাজি উল্লেখ হওয়ায় তা দেশ-বিদেশে প্রচার পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে হারগিলা সংরক্ষণের কাজে আরও উৎসাহ জোগাবে।”
উল্লেখ্য, আজ রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা দরং-ওদালগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দিলীপ শইকিয়া মঙ্গলদৈ মণ্ডলের ১৫৪ নং বুথে ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অসম প্রদেশ বিজেপির ৩৯টি সাংগঠনিক জেলার ৪৩৩টি মণ্ডলের ৩০ হাজারেরও বেশি বুথে লক্ষ কার্যকর্তা আজকের অনুষ্ঠান শ্রবণ করেন বলে মুখপাত্র জানান।












