,

হিন্দিকে সহযোগী ভাষার স্বীকৃতি স্বাগত, কিন্তু রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ বাঙালির ভাষা কেন ব্রাত্য: বিডিএফ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: আসাম বিধানসভায় সরকারি সহযোগী ভাষার তালিকায় পূর্বের অসমিয়া, ইংরেজি ও বোরো ভাষার সঙ্গে নতুন করে হিন্দি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, তবে একই সঙ্গে রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ ভাষিক জনগোষ্ঠী বাঙালিদের মাতৃভাষাকে এখনও সরকারি স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। বিধানসভার অধ্যক্ষ রঞ্জিত কুমার দাস  সম্প্রতি এই বিষয়ে বিবৃতি…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: আসাম বিধানসভায় সরকারি সহযোগী ভাষার তালিকায় পূর্বের অসমিয়া, ইংরেজি ও বোরো ভাষার সঙ্গে নতুন করে হিন্দি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, তবে একই সঙ্গে রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ ভাষিক জনগোষ্ঠী বাঙালিদের মাতৃভাষাকে এখনও সরকারি স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। বিধানসভার অধ্যক্ষ রঞ্জিত কুমার দাস  সম্প্রতি এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিডিএফ-এর মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য এক প্রেস বার্তায় বলেন রাজ্যে বোরো ভাষীর সংখ্যা চার শতাংশ এবং হিন্দি ভাষীর সংখ্যা সাত শতাংশ। সংখ্যা বড় কথা নয়, উভয় ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে অধ্যক্ষ হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বলে উল্লেখ করেছেন যা ভিত্তিহীন। ভারতে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছু নেই, সংবিধানে ভারতীয় ভাষা হিসেবে ২২টি ভাষা স্বীকৃত ও সমঅধিকারভুক্ত। কিন্তু রাজ্যের প্রায় এক কোটি মানুষ যে ভাষায় কথা বলেন সেই বাংলাকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে সরকার কেন আগ্রহী নয় তা বোধগম্য নয়। সরকার রাজ্যের বাঙালিদের কোন চোখে দেখে তা অধ্যক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্যেই স্পষ্ট। রাজ্যিক ভাষার স্বীকৃতির দাবি উঠলে অনেকে বলেন বরাক উপত্যকায় বাংলা আগে থেকেই সরকারি ভাষা, তাই নতুন স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে দুটি বিষয় মনে রাখা দরকার। প্রথমত বোরো ভাষাও বোরোল্যান্ডে স্থানীয় সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃত, যা রাজ্যিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বাধা হয়নি। দ্বিতীয়ত বরাকে বাংলা ভাষার সরকারি স্বীকৃতি কোনো সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে দেয়নি, দীর্ঘ আন্দোলন ও একাদশ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই অধিকার অর্জিত হয়েছে। জয়দীপ বলেন বাংলা ভাষা রাজ্যিক সহযোগী ভাষার স্বীকৃতি পেলে বিধানসভা ও সরকারি নামফলকে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে বাংলা যুক্ত হবে এবং কাজকর্মে এই ভাষার ব্যবহার বাড়বে, যা বাঙালিরা স্বাগত জানাবেন। কারণ এই ধরনের পদক্ষেপ একটি জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের মনোভাব ও আস্থাকে প্রতিফলিত করে। তিনি উল্লেখ করেন এবারের নির্বাচনে শাসক দলের জয়ে বাঙালিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, উভয় উপত্যকার বহু বাঙালির ভোট ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব ছিল না, তাই এই জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। জয়দীপ আরও বলেন আসামের বাঙালিরা ক্রমাগত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারাচ্ছেন। বিগত নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলই বাঙালি প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় নি। রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রীসভায় মাত্র একজন বাঙালি স্থান পেয়েছেন। সরকারি চাকরিতে বঞ্চনা, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বিধানসভার আসন কমানো সহ সবদিক দিয়েই বাঙালিদের কোণঠাসা করা হচ্ছে। তিনি বলেন অধিকার পেতে হলে আওয়াজ তুলতে হবে, রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে। বাংলা ভাষার রাজ্যিক সহযোগী ভাষার স্বীকৃতি পেতে বরাক উপত্যকার বাঙালি বিধায়ক ও সাংসদদের জাতির স্বার্থে সরব হতে হবে এবং সাধারণ নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে। উত্তর পূর্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ, সেখানে নিজেদের স্বার্থের প্রশ্নে বাঙালির উদাসীনতা লক্ষণীয়। এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে, অন্যথায় রাজ্যের বাঙালিরা সব রাজনৈতিক দলের কাছে শুধু ভোটব্যাঙ্ক হয়েই থাকবেন, প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদা পাবেন না। বিডিএফ-এর পক্ষে এই প্রেস বার্তা জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *