আরটিআই করে মামলার পরিসংখ্যান ও প্রস্তাবের তথ্য চাইলেন আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব
নিজস্ব প্রতিবেদন : হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি জেলায় পৃথক ফ্যামিলি কোর্ট স্থাপনের দাবিকে তথ্যভিত্তিকভাবে জোরালো করতে উদ্যোগ নিলেন শিলচরের বিশিষ্ট আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব। তথ্য জানার অধিকার আইন, ২০০৫-এর আওতায় তিনি আজ হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৃথক দুটি আরটিআই আবেদন দাখিল করেছেন।
আবেদনে দুই জেলায় বিচারাধীন পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলার সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, সন্তানের হেফাজত, দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য পারিবারিক বিরোধ মামলার সংখ্যা।
পাশাপাশি ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে কতগুলি পারিবারিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে, তার বছরভিত্তিক হিসাবও জানতে চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোন কোন আদালত এবং কোন পদমর্যাদার বিচারিক কর্মকর্তার এজলাসে এসব মামলা চলছে, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমিতে পৃথক ফ্যামিলি কোর্ট স্থাপনের বিষয়ে জেলা বিচার বিভাগের তরফ থেকে কোনো প্রস্তাব, সুপারিশ বা প্রতিবেদন উচ্চ আদালত বা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া। যদি এমন কোনো নথি থাকে, তার প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে। এছাড়া পারিবারিক মামলা পরিচালনার জন্য দুই জেলায় বিচারিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কতগুলি পদ অনুমোদিত রয়েছে এবং সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ধর্মানন্দ দেব বলেন, “পারিবারিক বিরোধ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ফ্যামিলি কোর্টের বিকল্প নেই। দুই জেলায় মামলার প্রকৃত সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার ও বিচারিক পরিকাঠামোর বাস্তব চিত্র সামনে আনতেই এই আরটিআই। প্রাপ্ত তথ্য ফ্যামিলি কোর্ট স্থাপনের দাবিকে আরও সুসংগঠিত করবে।”
তিনি ফ্যামিলি কোর্টস অ্যাক্ট, ১৯৮৪-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই আইনের ধারা ৭ ও ৮ অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, হেফাজত সংক্রান্ত মামলা ফ্যামিলি কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত। যেখানে পৃথক কোর্ট নেই, সেখানে জেলা আদালতকেই এই দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে মামলার চাপ বাড়ছে এবং নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, দেশভাগের আগে কাছাড়ে স্থায়ী সেশনস কোর্ট ছিল না। সিলেট সেশনস কোর্টের সার্কিট কোর্ট শিলচরে বসত। দেশভাগের পর বৃহত্তর কাছাড় দীর্ঘদিন জোরহাটের জেলা ও দায়রা জজের অধীন ছিল। ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ সালে কাছাড়ে জেলা ও দায়রা জজের পদ সৃষ্টি হয়, যার অধীনে শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দিও ছিল। পরে ১ জুলাই ১৯৮৩ সালে করিমগঞ্জ মহকুমা জেলায় উন্নীত হয় এবং ১০ মে ১৯৮৫ সালে সেখানে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চালু হয়।
উল্লেখ্য, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক ফ্যামিলি কোর্ট স্থাপনের দাবি উঠছে। আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মতে, পারিবারিক মামলার সংখ্যা বাড়ায় বিদ্যমান আদালতগুলির উপর চাপ বাড়ছে। দ্রুত ও কার্যকর বিচারের স্বার্থে এখানে পৃথক ফ্যামিলি কোর্ট স্থাপন এখন সময়ের দাবি।












