বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিসপুর : অনিয়মিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে রাজ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামছাড়া হয়ে পড়েছে। আলু, পেঁয়াজ, সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম হু হু করে বাড়ছে। কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, পোল্ট্রি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন, অথচ সাধারণ মানুষকে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বাজার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের কিছু প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদতপুষ্ট সিন্ডিকেটকে দায়ী করে আজ আসাম বিধানসভা প্রাঙ্গণে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখাল রাইজর দল। দলের বিধায়ক অখিল গগৈর নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে শতাধিক কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভের ধরণ ছিল অভিনব। একটি ঠেলাগাড়িতে ব্রয়লার মুরগি,মাছ ঝুলিয়ে এবং তাজা সবজি নিয়ে বিধানসভা অভিমুখে মিছিল করেন তারা। ঠেলাগাড়ির গায়ে বড় অক্ষরে লেখা ছিল “SYNDICATE”। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলিতে বর্তমান বাজারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে লেখা ছিল “ব্রয়লার — ৩৬ হাজার টাকা (১ ট্রাকে)”, “ডিম — ১ ট্রে ৩ টাকা”, “আলু-পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া”।

মূল পোস্টারে দাবি তোলা হয় “সিন্ডিকেটবাজের অবসান ঘটাও, মূল্যবৃদ্ধি রোধ করো”। মিডিয়ার সামনে অখিল গগৈ বলেন, গুদামে মাল মজুত করে কৃত্রিম অভাব তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসন নীরব, সরকার নজরদারি করছে না বলেই মাঝের দাল ও সিন্ডিকেট চক্র ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন এই সিন্ডিকেটের পিছনে কারা আছে এবং এই সিন্ডিকেট কবে শেষ হবে। তাঁর দাবি অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেটের শিকড় খুঁজে বের করতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিও জানান তিনি। বিক্ষোভ চলাকালীন “সিন্ডিকেট নিপাত যাক”, “দাম কমাও মানুষ বাঁচাও” স্লোগানে বিধানসভা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজ্যে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রেক্ষিতে রাইজর দলের এই প্রতিবাদ নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা শাসক দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।













