বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। শিলং : কাঁটাতারের বেড়া যেন গ্রামটাকেই দেশ থেকে আলাদা করে না দেয় – এই দাবিতে উত্তাল মেঘালয়ের লিংখং গ্রাম। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই গ্রামে চলমান বেড়া নির্মাণ বন্ধ করে বেড়া শূন্যরেখা বরাবর নিয়ে যাওয়ার দাবিতে রোববার পথে নামেন বাসিন্দারা। পিনুরসলা মহকুমা আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার লিংখং গ্রামের বাড়িগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। আন্তর্জাতিক নিয়মে শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজ ভেতরে বেড়া বসানোর কথা। কিন্তু বর্তমান নকশায় বেড়া পড়লে গোটা গ্রামটাই বেড়ার বাইরে চলে যাবে। তখন যাতায়াত, নিরাপত্তা – সব অনিশ্চিত।
গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরলেন গ্রামপ্রধান রামু। তিনি বলেন, বেড়ার বিরোধিতা করছেন না তারা। শুধু চান বেড়াটা যেন গ্রামকে ঘিরে, গ্রামকে বাদ দিয়ে নয়। শূন্যরেখায় বেড়া হলে গ্রাম থাকবে নিরাপদ বেষ্টনীর ভেতর।
স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদির গলাতেও একই আশঙ্কা। তার কথায়, বেড়ার বাইরে পড়ে গেলে গ্রামের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। রাজ্য সরকার যেন তাদের কথা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
কোভিডের সময় গ্রামবাসীরাই বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী বেড়া তুলেছিলেন। সেই থেকে পরিস্থিতি বদলায়নি। এবার পাকা বেড়া উঠছে, কিন্তু গ্রাম বাদ পড়ার ভয় তাড়া করছে।
আধিকারিকরা বলছেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্যই বেড়া। মেঘালয়ের ৪৪৪কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এখনও ৮০ কিলোমিটার ফাঁকা। লিংখং-এ নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ফাঁড়িও বসেছে।
স্বরাষ্ট্র বিভাগ সূত্রে খবর, জনবসতি বাঁচাতে শূন্যরেখা বরাবর এক সারির বেড়ার প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা শুরু হয়েছে। কিন্তু ওপারের নতুন সরকার এখনও সবুজ সংকেত দেয়নি।
তাই আপাতত বেড়া আর গ্রামের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে শুধুই অনিশ্চয়তা।












