গুয়াহাটিতে শেষ হল রবীন্দ্র উৎসব, মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া তুলে দিলেন পুরস্কার
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসম সরকারের অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রনৃত্য প্রতিযোগিতার সূচনা হয় গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রে গত ১২ জুন মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে এবং শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন প্রতিযোগিতার পর ১৪ জুন রবিবার শেষ দিনে গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শংকরদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে ছিল রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্যের বিশেষ আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী সভা, রাজ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা আরও বাড়াতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে টানা চার বছর ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় এবারও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় চার শত শিল্পী সংগীত ও নৃত্যের বিভিন্ন বিভাগে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এবং নানা ভাষাগোষ্ঠীর

শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই রাজ্যস্তরের মঞ্চ, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসম সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, হোজাই অঞ্চলের মাননীয় বিধায়ক শিলাদিত্য দেব ও ভারতীয় জনতা দলের আসাম প্রদেশের সম্পাদক সুশান্ত বিশ্বাস সহ রাজ্যের গুণী মানুষেরা, মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়া নিজে বিজয়ী শিল্পীদের হাতে পুরস্কার, মানপত্র ও উত্তরীয় তুলে দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন এবং বিধায়ক শিলাদিত্য দেব ও সুশান্ত বিশ্বাসও বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন এই ধরনের প্রতিযোগিতা রাজ্যের শিল্প-সংস্কৃতির ভিত আরও মজবুত করছে, প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের অধ্যক্ষ ও বিধায়ক শিলাদিত্য দেব বলেন তাঁর কার্যকালে এবার নিয়ে চতুর্থ বছর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে সামনে রেখে নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এই দুই মহান মানুষের অনুষ্ঠানকে ঘিরে গোটা রাজ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়, নানা ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ এক মঞ্চে আসায় অসমে ভাতৃত্বের মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হবে। উল্লেখ্য, রাজ্যভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় শিলচর, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি

থেকে সংগীত ও নৃত্যে ৫৪ জন শিল্পী অংশ নিয়েছিলেন এবং বরাক উপত্যকা যে শিল্প-সংস্কৃতিতে কোনো অংশে কম নয় তার উজ্জ্বল প্রমাণ রাখলেন শিলচর ও শ্রীভূমির নৃত্যশিল্পীরা, শিলচরের সাফল্যের পিছনে যে দুই নিবেদিতপ্রাণ নৃত্য শিক্ষিকা রয়েছেন তাঁরা হলেন নৃত্যাঞ্জলি সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষা গায়ত্রী দেব এবং সংস্থার সম্পাদিকা তথা তালিমদার সোনালি দে, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা যে কঠোর অনুশাসন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তালিম ও মাতৃস্নেহে পরিচর্যা দিয়ে চলেছেন তারই ফসল আজকের এই রাজ্যজয়, গায়ত্রী দেবের সুদীর্ঘ সাধনালব্ধ জ্ঞান এবং সোনালি দের নিবিড় তালিমের গুণে রবীন্দ্রনৃত্যের প্রতিটি মুদ্রা, প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি, প্রতিটি চোখের ইশারা ও মুখের অভিব্যক্তিতে এক অনন্য শৈল্পিকতা ফুটে উঠেছে, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেওয়াজ, তাল-লয়-ছন্দের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর শিক্ষা, মঞ্চের উপযোগী অঙ্গসঞ্চালন ও ভাবপ্রকাশের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁরা ছাত্রীদের এমনভাবে গড়ে তুলেছেন যে বিচারকমণ্ডলীও তাঁদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, গায়ত্রী দেব ও সোনালি দে-র এই নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ শিক্ষকতার জন্যই ‘ক’ বিভাগে শিলচরের তনুশ্রী পাল প্রথম স্থান এবং ‘খ’ বিভাগে শিলচরের শ্রুতি বিশ্বাস তৃতীয় স্থান অধিকার করে বরাকের মুখ উজ্জ্বল করেছে, অন্যদিকে

‘গ’ বিভাগে শ্রীভূমির রিমা দেব নিজস্ব শিক্ষিকার তালিমে প্রথম স্থান অধিকার করে বরাকের আরও একবার গৌরব বৃদ্ধি করেছে, উল্লেখ্য অন্যান্য বিভাগের নৃত্য ও সংগীত প্রতিযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ছাত্রছাত্রীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং অনুষ্ঠানের শেষে সবার হাতেই পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়েছে, শিলচর শহরের সুধীসমাজ ও অভিভাবক মহল নৃত্য শিক্ষিকা গায়ত্রী দেব ও সোনালি দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন তাঁদের এই নিরলস তালিমের জন্যই আজ বরাকের মেয়েরা গোটা অসমে নৃত্যচর্চার আদর্শ হয়ে উঠেছে এবং তাঁদের হাত ধরেই আগামী দিনে বরাকের আরও মেয়েরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে অসমের নাম উজ্জ্বল করবে।













