বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: শিলচর দূরদর্শন কেন্দ্র একসময় স্থানীয় সংবাদ থেকে শুরু করে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতির চর্চা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সরকারি অবহেলা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অভাবে এই প্রকল্প এখন বন্ধের মুখে। এর পুনরুজ্জীবনের দাবিতে এবার সরব হল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ গণমাধ্যম শাখার আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, বরাক উপত্যকার সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প সদিচ্ছার অভাবে এর আগেও বন্ধ হয়েছে। শিল্পদ্যোগের কথা ধরলে চিনিকল, বদরপুর বস্ত্রকল বা পাঁচগ্রাম কাগজ কল প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তেমনি চিরতরে বন্ধের পথে শিলচর দূরদর্শন কেন্দ্রও। অথচ এসব নিয়ে উপত্যকার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি বা সচেতন নাগরিকরাও নিশ্চুপ।
জয়দীপ বলেন, দূরদর্শন শিলচর কেন্দ্র নিয়ে কিন্তু একটা সময়ে যথেষ্ট উদ্যোগী হয়েছিলেন প্রাক্তন সাংসদ কবীন্দ্র পুরকায়স্থ। মূলত তাঁর উদ্যোগেই শিলচর দূরদর্শন কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সংবাদ সম্প্রচার শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রকল্পের উন্নয়ন বা এটিকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যাপারে কেউই সচেষ্ট হননি। এখন প্রযুক্তি অনেকটাই উন্নত। তাই দূরদর্শন সম্প্রচার চালু করতে হলে একটি নিবেদিত উপগ্রহ বাহিনীসহ একটি ভূ-কেন্দ্র স্থাপন অপরিহার্য। বর্তমানে স্থল ভিত্তিক প্রেরক যন্ত্রসমূহ কার্যত অচল ও অপ্রচলিত হয়ে পড়েছে। উপগ্রহ বাহিনীর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ন্যূনতম ১২ ঘণ্টা সম্প্রচার পরিচালনা করা যেতে পারে। পরবর্তীতে জাতীয় সম্প্রচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব, যা বর্তমানে অনেক উপগ্রহ বাহিনী সফলভাবে অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে একটি উপগ্রহ বাহিনীর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব আন্তরিক, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী তাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে এই সম্প্রচারের কার্যকর সূচনা করতে সক্ষম, তাঁদের অবদান ও যোগ্যতাকে যথাযথ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে নিয়োগ করা জরুরি। বরাক উপত্যকায় তেমন মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তার অভাব নেই। এবং যদি প্রায়োগিক বিনিয়োগ এবং দক্ষ কর্মীবৃন্দের সহায়তায় শিলচর দূরদর্শন কেন্দ্রের জন্য একটি নিবেদিত উপগ্রহ বাহিনী চালু করা হয় তবে তা অবশ্যই বরাকের সংবাদ মাধ্যমের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জয়দীপ বলেন, একটি সূত্রে জানা গেছে যে বরাকের সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ ইতিমধ্যে এ নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় স্তরে দাবি পেশসহ তদ্বির করছেন। তিনি বলেন, বিডিএফ-এর পক্ষ থেকে তাঁর এই পদক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন এবং প্রয়োজনে যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহী রয়েছেন। বরাকের জনগণও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই রাজস্ব দিচ্ছেন। তাই রাজ্যের একটি প্রান্তের নাগরিক, যাদের সংখ্যা চল্লিশ লক্ষাধিক এবং যাদের একটি স্বতন্ত্র কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে, তাদের অবশ্যই নিজেদের কথা, নিজেদের কৃষ্টি সংস্কৃতি, নিজেদের অভাব অভিযোগ একটি জাতীয় উপগ্রহ বাহিনীর মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচারের প্রয়োজন ও অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, এই ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে সরকার বাধ্য। তাই এই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বিডিএফ-এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।












