বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকারের অধীন পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ২৬ জুন শান্তিনিকেতনের সৃজনী শিল্পগ্রামে সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৮তম জন্মবার্ষিকী এবং বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই গৌরবময় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অধিকর্তা আশিস গিরি। তিনি অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মূল ভাষণে তিনি ভারতের সাহিত্য ও সমাজ জীবনে বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য নবজাগরণের প্রধান স্থপতি ছিলেন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বঙ্কিমচন্দ্রের লেখনী থেকে সৃষ্ট বন্দে মাতরম মন্ত্রটি শুধু একটি গান নয়, তা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেড়শো বছর পরেও বন্দে মাতরমের অমর উত্তরাধিকার আজকের প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের পথ দেখিয়ে চলেছে। দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা নানা বর্ণময় পরিবেশনায় সমৃদ্ধ ছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শ্রীময়ীর গণভাষীর শিল্পীবৃন্দের সমবেত কণ্ঠে বন্দে মাতরম সঙ্গীত পরিবেশিত হয়, যা গোটা প্রাঙ্গণকে দেশাত্মবোধক চেতনায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। এরপর আনন্দধারা নৃত্য মন্দিরের শিল্পীরা বন্দে মাতরমের সুরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী রিনা গিরি, মানস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভব্রত রায় চৌধুরী বঙ্কিমচন্দ্রের রচনা ও দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি করে দর্শক শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিল্পী ঝুলন মেহতারির সরাসরি স্কেচ ও স্বাক্ষর চিত্রাঙ্কন। তাঁর তুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে ওঠা বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিকৃতি এবং বন্দে মাতরমের ভাবনা উপস্থিত সকলের বিশেষ প্রশংসা ও করতালি অর্জন করে। এই স্মরণসভায় শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী, গবেষক, বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উৎসাহ ও উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দেড়শো বছর পরেও বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি এবং তাঁর বাণী বাঙালির মননে ও ভারতের জাতীয় জীবনে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও প্রাণবন্ত।













