,

শত কণ্ঠে সহস্র কণ্ঠ’: ১১ শহর থেকে একযোগে রবি-প্রণাম, শিলচরে ১৩০ শিল্পীর সুরে মুগ্ধ বরাক

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে শিলচর সহ দেশের ১১টি রাজ্যের ১১টি শহর থেকে একযোগে ধ্বনিত হল “হে নূতন, দেখা দিক আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ” এবং প্রযুক্তিনির্ভর অভিনব আয়োজন ‘শত কণ্ঠে সহস্র কণ্ঠ’-তে ‘চিরনূতন’ থিমকে কেন্দ্র করে একই ট্র্যাকে ১৭টি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে ইতিহাস গড়লেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা।…

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে শিলচর সহ দেশের ১১টি রাজ্যের ১১টি শহর থেকে একযোগে ধ্বনিত হল “হে নূতন, দেখা দিক আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ” এবং প্রযুক্তিনির্ভর অভিনব আয়োজন ‘শত কণ্ঠে সহস্র কণ্ঠ’-তে ‘চিরনূতন’ থিমকে কেন্দ্র করে একই ট্র্যাকে ১৭টি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে ইতিহাস গড়লেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীরা। শিলচরের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত চর্চাকেন্দ্র ‘রবিধারা’-র ব্যবস্থাপনায় ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী পঙ্কজ নাথের পরিচালনায় রাজীব ভবনে স্থানীয় ১৩০ জন শিল্পী এই জাতীয় স্তরের সাংগীতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং বড় পর্দায় রাউরকেল্লার ‘গীতিমাল্য’, বেঙ্গালুরুর ‘মালঞ্চ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস’, ভিলাইয়ের ‘রবীন্দ্রসুধা’, জামশেদপুরের ‘রবীন্দ্র তীর্থ’, চেন্নাইয়ের ‘সুরলহরী’, হায়দ্রাবাদের ‘হংসধ্বনি’, দিল্লির ‘আনন্দধ্বনি গুরুপ্রাণ’, ভোপালের ‘মেগা ইভেন্টস’, নভি মুম্বাইয়ের ‘বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন’ ও কলকাতার ‘সংগীত ভারতী মুক্তধারা’ সরাসরি সম্প্রচারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রেক্ষাগৃহজুড়ে এক অভূতপূর্ব আবহের সৃষ্টি হয়। কলকাতার সংগীত ভারতী মুক্তধারার সচিব অরুন্ধতী দেবের পরিকল্পনা ও মূল সংগীত পরিচালনায় সৌরভ চক্রবর্তীর যন্ত্রানুষঙ্গ ও শৌণক চক্রবর্তীর আবৃত্তিতে টানা ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট ধরে চলা এই সুরসফরে দর্শক-শ্রোতারা রবীন্দ্র-কাব্যের মাধুর্যে অবগাহন করেন এবং প্রতিটি গানের সঙ্গে বড় পর্দায় ভেসে ওঠা অন্য শহরের শিল্পীদের পরিবেশনা এক অপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে অরুন্ধতী দেব জানান, যান্ত্রিক দূরত্বের বাধা পেরিয়ে ১১টি ভিন্ন মঞ্চে আসীন শিল্পীরা বৈদ্যুতিন প্রযুক্তির মাধ্যমে একই বৃন্তে গাঁথছেন এই সুরের মালা এবং এটাই রবীন্দ্রনাথের ‘চিরনূতন’ ভাবনার যথার্থ প্রকাশ। দ্বিতীয় পর্বে শিলচরের অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন আয়োজক কমিটি। পর্দার আড়ালে থেকে সহযোগিতা করা নেপথ্য কারিগরদেরও যথাযথ সম্মাননা প্রদান করা হয় এই মঞ্চে। অনুষ্ঠানে অনুভব ব্যক্ত করে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধন বিরল এবং এই প্রয়াস রবীন্দ্রচেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে। অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরীও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের এক সুরে বাঁধা দেখে তিনি অভিভূত। আয়োজকরা জানান, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি ও রবীন্দ্র অনুরাগীদের মধ্যে এক আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হয়ে উঠেছে। সবশেষে আয়োজনের পক্ষ থেকে পঙ্কজ নাথ সকল শিল্পী, দর্শক ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন এমন মিলনমেলা বরাকের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার জন্য অরিন্দম ভট্টাচার্য, সুপ্রদীপ দত্তরায়, সুজিত ঘোষ, বাপি রায়, শাখি ভট্টাচার্য, ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য, শিবশংকর ধর সহ  অনেককেই আয়োজকের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান পঙ্কজনাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *