পূর্বমুখী নীতির অধীনে বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা অসম ও উত্তর-পূর্বের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে: রাজ্যপাল
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : দেশজুড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জলন্ধর সেনানিবাস স্টেশন থেকে ভার্চুয়ালি ৭৫টি পুনর্নির্মিত রেল স্টেশনের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে ছিল অসমের ঐতিহাসিক ১১৭ বছরের পুরনো মাজবাট রেল স্টেশন। অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য মাজবাটের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুনর্নির্মিত স্টেশনের ফলক উন্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, পুনর্নির্মাণের ফলে মাজবাট অমৃত স্টেশনকে একটি প্রাণবন্ত শহর কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অঞ্চলের পর্যটন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। পুনর্নির্মাণের পর স্টেশনটিতে আধুনিক যাত্রী-বান্ধব সুবিধা, উন্নত গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, প্রশস্ত অপেক্ষাগার, জল সংরক্ষণ, সৌরশক্তি এবং সবুজ এলাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল শ্রী আচার্য এই দিনটিকে অসমের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মাজবাট রেল স্টেশনের এই রূপান্তর প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পরিকাঠামো গড়ে তোলার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে মাজবাটকে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এবং রাজ্যের উন্নয়নে অবদানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
রাজ্যপাল বলেন, পুনর্নির্মিত স্টেশনটি অসমের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আধুনিক যাত্রী সুবিধার সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিশিয়েছে। এটি একটি যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে রাজ্যের স্বতন্ত্র পরিচয়ও তুলে ধরবে। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে উন্নত এই স্টেশন পর্যটন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের যোগাযোগ আরও দৃঢ় করবে।

ভারতীয় রেলের দ্রুত রূপান্তরের কথা তুলে ধরে শ্রী আচার্য বলেন, বিগত এক দশকে রেল পরিকাঠামোর অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ, স্টেশন পুনর্নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক ট্রেন চালু করা ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দশ বছরে অসম ও উত্তর-পূর্বের জন্য রেল বাজেট বরাদ্দ পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে অসমের ৫০টি ও উত্তর-পূর্বের মোট ৬০টি স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।
রাজ্যপাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর “পূর্বমুখী হও, দ্রুত কাজ করো, প্রথমে কাজ করো” দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে উন্নত বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা অসম ও উত্তর-পূর্বের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চল ভারতের বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
নতুনভাবে তৈরি এই সরকারি সম্পদ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে রাজ্যপাল জনগণ, বিশেষ করে যুব সমাজকে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে বলেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে মাজবাট রেল স্টেশন নতুন সুযোগ, সমৃদ্ধি ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠবে এবং “উন্নত অসম ও উন্নত ভারত”এর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে পশুপালন ও পশু চিকিৎসা মন্ত্রী নীলিমা দেবী, পরিবহন ও বোড়োল্যান্ড কল্যাণ মন্ত্রী চরণ বড়ো, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের প্রধান চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, রাঙিয়া বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে আধিকারিক অনন্ত সদাশিব সহ রেলের শীর্ষ আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।












