,

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করতে কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করছে অসম সরকার

১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে সামনে রেখে নতুন উদ্যোগ বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এফটিএ কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে অসম সরকার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই চুক্তি ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এই লক্ষ্যে মঙ্গলবার অসমের…

১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে সামনে রেখে নতুন উদ্যোগ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এফটিএ কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে অসম সরকার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই চুক্তি ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এই লক্ষ্যে মঙ্গলবার অসমের মুখ্য সচিব রবি কোটা ব্রিটিশ উপ-হাই কমিশনার অ্যান্ড্রু ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রস্তাবিত অসম-যুক্তরাজ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার রাউন্ডটেবিল এবং যুক্তরাজ্য-ভারত সার্বভৌম এআই পার্টনারশিপ সহ একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বুধবার সোশাল মিডিয়া পোস্টে রবি কোটা বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি সংযোজন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অসম-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।


তিনি লেখেন, ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে অসমের দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ প্রচার, রপ্তানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সংহতকরণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অসম-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেছি। কোটা জানান, ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এপিডিসিএলের জন্য যুক্তরাজ্য প্যাক্ট সমর্থিত ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বিইএসএস নিড অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালাইসিস রিপোর্ট পেশ করেছে। রিপোর্টে গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো, নবীকরণযোগ্য শক্তির সংযোজন ত্বরান্বিত করা এবং রাজ্যের পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তরকে সহায়তা করার সুপারিশ রয়েছে। বৈঠকে গুয়াহাটিতে প্রস্তাবিত অসম-যুক্তরাজ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার রাউন্ডটেবিল নিয়েও আলোচনা হয়। এর উদ্দেশ্য টেকসই নগরায়ন, পরিবহণ, বন্যা প্রতিরোধ ক্ষমতা, জলবায়ু সহনশীল পরিকাঠামো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব তৈরি করা। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স ইউকেইএফ-এর সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের কথাও আলোচিত হয়। কোটা বলেন, টেকসই নগরায়ন, পরিবহণ, বন্যা সহনশীলতা, জলবায়ু সহনশীল পরিকাঠামো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব সহজ করতে গুয়াহাটিতে প্রস্তাবিত অসম-যুক্তরাজ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার রাউন্ডটেবিল নিয়ে আলোচনা করেছি। এর সঙ্গে যুক্তরাজ্য এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স ইউকেইএফ-এর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। আলোচনায় প্রস্তাবিত যুক্তরাজ্য-ভারত সার্বভৌম এআই পার্টনারশিপের অধীনে সুযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। বিশ্বাসযোগ্য এআই পরিকাঠামো, সার্বভৌম ক্লাউড ক্ষমতা, উন্নত কম্পিউটিং এবং এআই শাসন কাঠামোর মাধ্যমে অসমের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। কোটা বলেন, ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে উদ্ভূত সুযোগগুলিকে বর্ধিত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করার জন্য আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ অসমের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাকে সহায়তা করবে। যুক্তরাজ্য-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আসন্ন হওয়ায় বৈঠকটি সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন অ্যান্ড্রু ফ্লেমিং।
তিনি বলেন, পরিকাঠামো, কৃষি-প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, খেলাধুলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, জলবায়ু এবং শক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র ও উপ-ক্ষেত্রে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *