,

মে দিবসে শ্রমের মর্যাদায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ: তিন কৃতী কর্মীকে সম্মাননা, শুরু ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ১৮৮৬ সালের শিকাগোর ‘হে মার্কেটের’ রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচরের উদ্যোগে শুক্রবার মহাসমারোহে পালিত হল আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে মধ্যসহর সাংস্কৃতিক সমিতির সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই ১ মে থেকে শুরু হল মঞ্চের একমাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’। মঞ্চের পক্ষ থেকে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ১৮৮৬ সালের শিকাগোর ‘হে মার্কেটের’ রক্তাক্ত ইতিহাসকে স্মরণ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচরের উদ্যোগে শুক্রবার মহাসমারোহে পালিত হল আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে মধ্যসহর সাংস্কৃতিক সমিতির সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই ১ মে থেকে শুরু হল মঞ্চের একমাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’। মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের চেতনা ও উনিশের ভাষা-আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই গোটা মে মাস জুড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত মে দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মঞ্চের সহ-সভাপতি সুবীর ভট্টাচার্য। মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা ও বর্তমান সময়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন আরেক সহ-সভাপতি মনোজকান্তি দেব। সভাপতির ভাষণে মঞ্চের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস শ্রমিক আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস, আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবি আদায়ের লড়াই এবং আজকের দিনে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, শিকাগোর শহিদদের আত্মবলিদান বৃথা যেতে পারে না, শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই তাঁদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিলচরের তিন কৃতী কর্মচারীকে স্মারক সম্মাননা প্রদান। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীরবে কাজ করে চলা এই তিন কর্মীর হাতে স্মারক সম্মান তুলে দেন মঞ্চের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, সহ-সভাপতি মনোজ দেব ও মঞ্চের বিশিষ্ট সদস্য সন্তোষ চন্দ। সম্মাননা প্রাপকরা হলেন সমাজসেবার জন্য আশা কর্মী শিখা দাস, দায়িত্বনিষ্ঠ কর্তব্যপালনের জন্য রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ নাথ এবং প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য জেলা প্রশাসনের কর্মচারী জয়দীপ নাথ। সম্মাননা গ্রহণের পর তিনজনই আবেগঘন কণ্ঠে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁদের আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে প্রেরণা জোগাবে। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে শ্রমিক জীবনের সংগ্রাম ও স্বপ্ন ফুটিয়ে তোলা হয় গান, নাচ ও নাটকের মাধ্যমে। বিভাঙ্গন কলাকেন্দ্র ও বংশিতা নৃত্য কলা অ্যাকাডেমির ক্ষুদে শিল্পীরা সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। শান্তিকুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সুরমল্লার সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীরা গণসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে সভাকক্ষকে মুখরিত করে তোলেন। শেষ পর্বে ‘কোরাস’ নাট্যগোষ্ঠীর শিল্পীরা মঞ্চস্থ করেন শ্রমিক জীবনভিত্তিক একটি ছোট নাটক, যা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সমগ্র অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয়কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’ শীর্ষক এই একমাসব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুধু মঞ্চের সদস্যদের নয়, এ শহরের প্রতিটি নাগরিকের। তাই জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সাদর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, আগামী ১৭ মে বরাক উপত্যকার ভাষা শহিদদের স্মরণে অনুষ্ঠিতব্য ‘উনিশের মহা পথ চলা’-য় শিলচরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত ও সর্বাত্মক উপস্থিতি মঞ্চের সদস্যরা আন্তরিকভাবে কামনা করছেন। এই পথ চলার মাধ্যমেই ভাষা শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেন মঞ্চের সদস্য সায়ন রায় কুটন ,দেবরাজ ভট্টাচার্য, বিপ্লব দে, নবনীতা দে, গোরা চক্রবর্তী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *