বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানালেন, অসমের মুসলিমরা এনডিএ-কে ভোট না দিলেও দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মুসলিম মহিলাদের উন্নয়ন ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বুধবার বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল নিয়ে বিশদ আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার কথা। বিল পাশ হলে গুজরাত ও উত্তরাখণ্ডের পরে অসম হবে ইউসিসি পাশ করা তৃতীয় রাজ্য। মুসলিম দল-সংগঠন ও বিরোধীদের তরফে বিলের প্রতিবাদ আসছে।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই আইন সর্বাগ্রে মুসলিম মহিলাদের বহু গ্লানি, অত্যাচার ও অধিকারহীনতা থেকে বাঁচাবে।” তাঁর দাবি, ইউসিসি বহুবিবাহ, তিন তালাকের মতো প্রথায় লাগাম টেনে নারীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করবে।
বকরি ইদে গো-কুরবানি নিয়ে আহ্বান
এবারের বকরি ইদ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন ইদগাহ কমিটি গো-হত্যা না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারের তরফে তাদের ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অসমের সব জেলার মুসলিমদের এবং দেশের অন্য রাজ্যের মুসলিমদের কাছে এই ইদে গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “ধর্মগ্রন্থে কোথাও বলা হয়নি যে কুরবানির জন্য গরুই প্রয়োজন। অসমে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের আদর্শ বজায় রাখতে মুসলিম সমাজের এই সংযম পথিকৃৎ হতে পারে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইউসিসি বিল ও গো-কুরবানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী শিবির সরব হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি সরকার “ভোটের আগে মেরুকরণের রাজনীতি” করছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, মুসলিম মহিলাদের অধিকার সুরক্ষিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ‘মিঞা মুসলিম’ প্রসঙ্গে একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আবার পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে গিয়েও নারী শক্তি বিল ও বাংলার অর্থনীতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন।












