,

মন্ত্রিসভায় শিলচরের প্রতিনিধিত্ব চায় বিডিএফ, বাঙালির সমস্যা সমাধানের দাবি

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: ১২ মে আসামের নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষিতে নতুন মন্ত্রিসভায় আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শিলচরের বিধায়কের অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। শনিবার সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, নতুন সরকারকে তাঁরা অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং আশা করছেন যে বরাক উপত্যকা তথা আসামের ৯০ লক্ষ বাঙালির সমস্যা সমাধানে এই…

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: ১২ মে আসামের নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষিতে নতুন মন্ত্রিসভায় আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শিলচরের বিধায়কের অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। শনিবার সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, নতুন সরকারকে তাঁরা অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং আশা করছেন যে বরাক উপত্যকা তথা আসামের ৯০ লক্ষ বাঙালির সমস্যা সমাধানে এই সরকার সত্যিকার অর্থে উদ্যোগী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শিলচর থেকে নির্বাচিত কোন বিধায়ককে গত ৪২ বছরে আসামের মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া হয়নি এবং বিগত কংগ্রেস, অগপ বা বিজেপি সরকার কেউই কোন পদক্ষেপ নেননি। ১৯৮৩ সালে জগদীশ চৌধুরী শিলচর থেকে শেষ মন্ত্রী হয়েছিলেন, তারপর থেকে দীর্ঘ সময় জুড়ে আর কাউকে এই ভূমিকায় দেখা যায়নি। প্রদীপ দত্তরায় বলেন, জনসংখ্যার দিক দিয়ে শিলচর আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এই শহরের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল এই শহরে। বৃটিশ আমলে এখানে চা বাগানের সূচনা হয়েছিল এবং যুদ্ধের প্রয়োজনে সামরিক বিমান বন্দর স্থাপিত হয়েছিল। বিশেষ ভৌগলিক অবস্থানের জন্য এই শহর দেশের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই শহরের অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি অভিযোগ করেন, ঐতিহ্যবাহী এই শহর ক্রমাগত বঞ্চনার জন্য তাঁর কৌলিন্য হারাতে বসেছে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি আমলে এর আগে দিলীপকুমার পাল এবং দীপায়ন চক্রবর্তী শিলচর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হলেও কাউকেই মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দেওয়া হয়নি। আসামে বিজেপি দলের উত্থানের অন্যতম স্থপতি প্রয়াত বিমলাংশু রায়ের পুত্র এবার শিলচর থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাঁর প্রতি এবং বরাকের ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শিলচরের বিধায়ককে নতুন মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাচ্ছেন তিনি। প্রদীপ দত্তরায় আরও বলেন, এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দল সরকার গঠন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমূহ সমাধানের জন্য যথাসাধ্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন, নিয়োগের সুবিধা সৃষ্টি তথা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নেবার প্রতিশ্রুতির জন্য তাদের সাধুবাদ প্রাপ্য। কিন্তু একই সঙ্গে আসামের যে ৯০ লক্ষ বাঙালি রয়েছেন তাঁদের সমস্যা বোঝার ও সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে বিজেপি নেতৃত্বের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আসামের বাঙালিদের ডি-ভোটার বানানো হবে, কেন এনআরসি তে ১২ লক্ষ বাঙালি হিন্দু সহ ১৯ লক্ষের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হবে, কেন বাঙালি ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবেনা, কেন বরাক উপত্যকায় সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে বাঙালির সংখ্যা নগণ্য। প্রদীপ দত্তরায় বলেন, নতুন সরকার এসব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *