নয়াদিল্লি। ১জুন : মায়ানমারের মাটি ভারতের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনও কাজে ব্যবহার হবে না। সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে এই নিশ্চয়তা দিলেন মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন আউং হ্লাইং।
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার থেকে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে ভারতে পা রেখেছেন মায়ানমারের সেনা-সমর্থিত সরকারের প্রধান তথা সাবেক সেনাপ্রধান হ্লাইং। দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি তাঁর বিহারের বুদ্ধগয়া যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে এই সফরে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিরোধীদের ছাড়া যে বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছিল, তাতে জেতার পর এটাই হ্লাইংয়ের প্রথম বিদেশযাত্রা। আর সেই সফরে প্রতিবেশী চিনকে পাশ কাটিয়ে তিনি বেছে নিলেন ভারতকেই।
বৈঠক শেষে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানান, দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। আলোচনার বিষয় ছিল দুই দেশের বাণিজ্য-অর্থনীতির সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি সামলানো, ভারতের দেওয়া উন্নয়ন সহায়তা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি—এই তিন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন মোদী-হ্লাইং।
হ্লাইংয়ের সঙ্গে দিল্লিতে এসেছে মায়ানমারের এক উচ্চ পর্যায়ের দল। সেই দলে রয়েছেন সে দেশের মন্ত্রী, সরকারের শীর্ষ আধিকারিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
মায়ানমার লাগোয়া ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে জঙ্গি কার্যকলাপ ও মাদক চোরাচালান রোখার জন্য নেপিডোর সহযোগিতা দিল্লির কাছে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। হ্লাইংয়ের দেওয়া আশ্বাস এবং চিনকে এড়িয়ে ভারত সফর—এই দুই ঘটনাকে কূটনৈতিক মহল ভারত-মায়ানমার সম্পর্কের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে।












