বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসম বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা ও তথ্য পেশ করল রাজ্য সরকার। গ্রামীন কর্মসংস্থান প্রকল্প বদল থেকে সীমান্ত উন্নয়ন, গ্রামীন আবাস, সেচ, ফুলচাষ, অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং বিচারাধীন মামলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
১. নতুন গ্রামীন কর্মসংস্থান প্রকল্প: ভিকশিত ভারত – গ্রামীণ গ্যারান্টি মিশন
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী অতুল বড়া জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীন কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্পের পরিবর্তে “ভিকশিত ভারত কর্মসংস্থান ও জীবিকা গ্যারান্টি মিশন – গ্রামীণ” চালু করেছে।
নতুন প্রকল্পে যোগ্য গ্রামীন পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। আগে যা ছিল ১০০ দিন। এতে বায়োমেট্রিক হাজিরা, জিপিএস ভিত্তিক কর্মস্থল পর্যবেক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক নজরদারি এবং প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ভৌগলিক তথ্য ভিত্তিক গ্রাম পরিকল্পনা থাকবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জল সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা, জীবিকার পরিকাঠামো ও গ্রামোন্নয়নে। চাষ ও ফসল কাটার সময় কৃষি শ্রমিকের অভাব মেটাতে ৬০ দিনের বিরতিও থাকবে। পুরনো প্রকল্পের বকেয়া টাকা কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে মিটিয়ে দেওয়া হবে।
২. সীমান্ত গ্রাম উন্নয়ন
মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার অসমের ৯টি সীমান্ত জেলার ১৪০টি গ্রামকে “প্রাণবন্ত গ্রাম প্রকল্প – দ্বিতীয় পর্যায়”-এর আওতায় এনেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা এই গ্রামগুলিতে সারা বছর চলার উপযোগী রাস্তা, টেলিযোগাযোগ, টেলিভিশন পরিষেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা দেওয়া হবে।
৩. গ্রামীন আবাসন
গ্রামীন আবাস যোজনায় অসমে ২৯.০৮ লক্ষ বাড়ি মঞ্জুর হয়েছে। এর মধ্যে ২২.৬০ লক্ষ বাড়ির কাজ শেষ, এবং ৬.৪৯ লক্ষ বাড়ির কাজ চলছে।
২০২৪ সালের জরিপে প্রায় ৩৫ লক্ষ পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়েছে রাজ্যের স্থায়ী অপেক্ষারত তালিকা তৈরি করতে।
৪. সেচ ও ফুলচাষ
সেচ মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা বলেন, অসমে মোট ৩৫১০টি সেচ প্রকল্প আছে। এর মধ্যে ৮৮২টি পুরোপুরি চালু, ১৪৫৭টি আংশিক চালু, ৯৩৭টি বন্ধ এবং ২৩৪টি নির্মাণাধীন। ২০২১-২ থেকে ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত বিভাগের জন্য ২৩০৭.৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিভাগের ১,৮১১টি শূন্যপদ পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
কৃষি মন্ত্রী জানান, ২০২-২৩ সালে ৩,৩৮০ জন কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ১৪৯৪০ জন হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ও হিমালয় রাজ্যের জন্য সমন্বিত উদ্যান উন্নয়ন মিশনের অধীনে ৩৪.৫০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। গুয়াহাটির শুক্লেশ্বর ফুল বাজার আধুনিকীকরণের প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন। তবে এখনও অসম থেকে ফুল রপ্তানি শুরু হয়নি।
৫. সীমান্ত সমস্যা
সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়ন মন্ত্রী অতুল বড়া জানান, প্রতিবেশী রাজ্যগুলির দখলে অসমের ৮২,৭৫১ হেক্টর জমি রয়েছে।
এর মধ্যে নাগাল্যান্ডের দখলে ৫৯,৪৯০ হেক্টর, অরুণাচলের দখলে ১৬,১৪৪ হেক্টর, মিজোরামের দখলে ৩৬৭৬ হেক্টর এবং মেঘালয়ের দখলে ৩৪৪২ হেক্টর। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও জমি ফিরিয়ে আনতে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
৬. বিচারাধীন মামলা ও আবগারি
বিচার মন্ত্রী সুশান্ত বড়গোহাঁই জানান, অসমের অধস্তন আদালতে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ২৬৫টি মামলা বিচারাধীন। গুয়াহাটি উচ্চ ন্যায়ালয়ের প্রধান আসনে ১০টি মামলা পড়ে আছে। ১১টি নতুন বিচারকের পদ তৈরির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।
আবগারি মন্ত্রী জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৬২,২৫৯টি অভিযান চালিয়ে ১১,১৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কড়া আইন, ডিজিটাল নজরদারি ও নিরাপত্তা হোলোগ্রামের কারণে অবৈধ মদের ব্যবসা কমেছে। এই সময়ে আবগারি দপ্তরের রাজস্ব আদায় ১৫,২৬০ কোটি টাকার বেশি। রাজ্যে বর্তমানে ২,৪০৮টি বিদেশি মদের দোকান, ১,১৯৪টি বার এবং ১,২১২টি দেশি মদের দোকান রয়েছে। দপ্তরের শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে।












