বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, গুয়াহাটি: টানা দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় বার্তা দিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বুধবার তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় আসাম অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছে।” তাঁর দাবি, দুই প্রতিবেশী রাজ্যের রাজনৈতিক জোট বাংলাদেশ থেকে ‘অবৈধ অভিবাসন’ সহ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বয় আরও মজবুত করবে।
সীমান্তে সমন্বয়ের সুবিধা
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ মিলে বাংলাদেশের সঙ্গে ২,৪৭৯.৭ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে। যা দু’দেশের মোট ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার সীমান্তের বড় অংশ। “ঐতিহাসিকভাবেই দুই রাজ্য আইন-শৃঙ্খলা এবং আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ওপার থেকে আসা প্রতিবন্ধকতার দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে অপরাধীরা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়ত, কিন্তু সহযোগিতা সবসময় সহজ ছিল না। এখন দুই রাজ্যেই একই সরকার থাকায় শাসন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যাবে।” মঙ্গলবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা তুলে ধরে হিমন্ত বলেন, “এটি আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার সূচনা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে উষ্ণতা দেখিয়েছেন, তা উত্তর-পূর্বের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।”
ইউসিসি নিয়ে অনড় হিমন্ত
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান প্রতিশ্রুতি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার ফের স্পষ্ট করলেন হিমন্ত। তিনি বলেন, “ইউসিসি-সহ আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিটি কথা শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।” জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির অন্যতম প্রধান আদর্শিক অঙ্গীকার ইউসিসি। এর মাধ্যমে সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে একই দেওয়ানি আইন কার্যকর হবে।
প্রথম দফার পদক্ষেপ
হিমন্তের প্রথম মেয়াদেই আসাম সরকার বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। বাতিল করা হয় ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন আইন। এবার দ্বিতীয় দফায় শপথ নিয়েই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ইউসিসি কার্যকরের প্রস্তাব পাশ করিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষার বার্তা দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, অসম বিধানসভা নির্বাচন জিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। হিন্দুত্ব ও ইউসিসি ইস্যুতে ভর করেই এই বড় জয় এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












