‘এটি বরাকের আত্মমর্যাদার লড়াই’— ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক সচেতন নাগরিক সমাজের
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, শিলচর: বরাক উপত্যকায় স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবার আরও জোরদার হচ্ছে গণআন্দোলন। ইতিমধ্যে উপত্যকার প্রায় ৬৭টি এনজিও, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন এই দাবির সমর্থনে স্মারকপত্র প্রেরণ করেছে। বরাকের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বাকি সংগঠন ও বিশিষ্টজনদেরও এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃতজ্ঞতা ও আহ্বান
এক প্রেস বিবৃতিতে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা বরাক উপত্যকার প্রতিটি এনজিও, সংস্থা, ক্লাব, সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, যাঁরা বরাকে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্মারকপত্র প্রেরণ করেছেন। আপনাদের এই সাহসী পদক্ষেপ বরাকবাসীর ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, জানা ও অজানা মিলিয়ে এই সংখ্যা শতাধিকও হতে পারে। এটি শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং বরাকবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, কষ্ট ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
‘এটি ব্যক্তির নয়, বরাকের লড়াই’
নাগরিক সমাজ স্পষ্ট করেছে, “আমরা বিশ্বাস করি, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়। এটি সমগ্র বরাকবাসীর আত্মমর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়ের লড়াই।”
এখনও যেসব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই দাবির সমর্থনে এগিয়ে আসেননি, তাঁদের প্রতিও আন্তরিক আবেদন জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আসুন, বরাকের ভবিষ্যৎ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে একসাথে আওয়াজ তুলি।”
রাজনীতির ঊর্ধ্বে ঐক্যের ডাক
সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে, ব্যক্তিস্বার্থ ও ন্যস্ত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “বহু বছর ধরে বরাকবাসী বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার। তাই এবার যদি আমরা একসাথে না দাঁড়াই, তাহলে হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। এই বাস্তবতাটি আমাদের সকলকেই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।”
‘এখনই চাই’
আন্দোলনকারীদের দাবি, যত বেশি স্মারকপত্র যাবে, তত বেশি দাবির গুরুত্ব প্রতিফলিত হবে। তাই সংখ্যা দ্রুত আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে একটাই স্লোগানে শান দেওয়া হয়েছে—
“বরাকে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ চাই, এখনই চাই।”
বর্তমানে গুয়াহাটি হাইকোর্টের ওপর নির্ভরশীল বরাকের ৪০ লক্ষের বেশি মানুষকে ন্যায়বিচারের জন্য প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। স্থায়ী বেঞ্চ হলে মামলার জট কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।












