ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট ও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব, বর্ষা অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই পাশের চেষ্টা
নিট ফাঁসে ২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা, ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: পেপার ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শাস্তি দিতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন ও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা হবে এবং বর্ষা অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তা সংসদে পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ছোট বিষয় নয়। পেপার ফাঁসের ঘটনা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের বাবা-মায়ের মনে গভীর যন্ত্রণা দিয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই ধরনের ঘটনা আরও কঠোর হাতে মোকাবিলা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নিট পেপার ফাঁসের অভিযোগের পর সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ছিল ছাত্রদের একটা শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হওয়া নিশ্চিত করা বলে জানান মোদি। “আমাদের প্রথম দায়িত্ব ছিল ছাত্রদের একটা বছর নষ্ট না হতে দেওয়া। তাই যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা নেওয়া জরুরি ছিল,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, সরকার পুরো প্রশাসনিক শক্তি কাজে লাগিয়ে প্রায় ২.২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করে। “সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে ২.২ লক্ষ ছাত্রের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মাত্র পাঁচ-ছয় দিন আগে, ১৯ তারিখে ফলও প্রকাশিত হয়েছে। সারা দেশ থেকে সফল পরীক্ষার্থীদের উদযাপনের খবর আসছে,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেন, পেপার ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, একাধিক অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছে। কিন্তু শুধু এতেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। “তাই আজ আমি দপ্তরগুলিকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের বিধান তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছি,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আধিকারিকরা সারাদিন কাজ করে খসড়া আইনটি তৈরি করেছেন, যা বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর কাছে জমা পড়েছে। এই খসড়ায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট এবং কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর মন্ত্রীদের পরামর্শ নিয়ে বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া বর্ষা অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিলটি সংসদের উভয় কক্ষে পাশ করানোর জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
উল্লেখ্য, নিট পেপার ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে এবং সংসদেও বারবার হট্টগোল হচ্ছে। বিরোধীরা এই ইস্যুতে আলোচনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পেপার ফাঁস রুখতে আরও আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনা হবে।












