বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: আগামী ৫ জুলাই কাছাড় জেলার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য অসম লোকসেবা আয়োগ (এপিএসসি) পরিচালিত সম্মিলিত প্রতিযোগিতামূলক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা, ২০২৫-এর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিচালনার লক্ষ্যে কাছাড় জেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জেলার বিভিন্ন নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, অসম লোকসেবা আয়োগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পরীক্ষার্থীদের কমিশন কর্তৃক জারি করা সকল নির্দেশিকা সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অবশ্যই ই-অ্যাডমিশন সার্টিফিকেট (অ্যাডমিট কার্ড), সাম্প্রতিক তোলা একটি পাসপোর্ট সাইজের আলোকচিত্র এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল ফটো পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। ই-অ্যাডমিশন সার্টিফিকেট (অ্যাডমিট কার্ড) ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
কমিশনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের অন্তত দুই ঘণ্টা পূর্বে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে তল্লাশি (Frisking) এবং পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পর কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ওএমআর (OMR) উত্তরপত্রে উত্তর চিহ্নিত করার জন্য শুধুমাত্র নীল অথবা কালো বল-পয়েন্ট কলম ব্যবহার করা যাবে।পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি, হেলথ ব্যান্ড, ব্লুটুথ ডিভাইস, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, লিখিত নোট, বই, ব্যাগ অথবা অন্য কোনো যোগাযোগের যন্ত্র পরীক্ষাকক্ষে বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কোনো সামগ্রী চালু বা বন্ধ যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সঙ্গে পাওয়া গেলে তা অসদুপায় অবলম্বন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ওএমআর উত্তরপত্রে একটি মূল লাল রঙের শিট এবং একটি নীল কার্বন কপি থাকবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের নীল কার্বন কপিটি আলাদা করে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে এবং মূল লাল রঙের ওএমআর উত্তরপত্রটি পরীক্ষাকক্ষ ত্যাগের পূর্বে অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনভিজিলেটরের নিকট জমা দিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর উত্তরপত্রে পরীক্ষাকেন্দ্র, পরীক্ষাস্থল, রোল নম্বর, টেস্ট বুকলেট নম্বর এবং টেস্ট বুকলেট সিরিজ-সহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সরবরাহকৃত টেস্ট বুকলেটে সবগুলো পৃষ্ঠা রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা অবিলম্বে ইনভিজিলেটরকে জানাতে হবে। এই পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং প্রযোজ্য থাকবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের নির্ধারিত নম্বরের এক-চতুর্থাংশ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। এছাড়াও পরীক্ষার্থীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি পত্রের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে কাউকে পরীক্ষাকক্ষ ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
পরীক্ষা চলাকালীন কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। নকল করা, অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা অথবা যেকোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সঙ্গে সঙ্গে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। পরীক্ষার প্রথম ৩০ মিনিট এবং শেষ ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো পরীক্ষার্থীকে শৌচাগারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। পরীক্ষা চলাকালীন বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি সাপেক্ষে শৌচাগারে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পাঁচ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল পরীক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন, নির্ধারিত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলেন এবং যেকোনো ধরনের অসুবিধা এড়াতে যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। এছাড়াও, পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং কঠোরভাবে অনুসরণের উদ্দেশ্যে অসম লোকসেবা আয়োগ (এপিএসসি) কর্তৃক জারি করা সকল নির্দেশিকা সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অসমের শিলচরস্থিত তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয়, বরাক ভ্যালি জোন থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।












