প্রমাণের অভাবে ৩০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড বাতিল, সঙ্গে মুক্তির নির্দেশ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ধর্ষণ ও পকসো মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ বছরের কঠোর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভুক্তভোগী নাবালিকা ছিলেন তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি অভিযোগপক্ষ। এছাড়া মামলার নথিতে থাকা সাক্ষ্যপ্রমাণ দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বিচারপতি মাইকেল জোথাংখুমা ও বিচারপতি রাজেশ মজুমদারের ডিভিশন বেঞ্চ ২৩ জুন এই রায় দেয়। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের বাসিন্দা লিটন সাহার দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে এই রায় ঘোষিত হয়। কামরূপ মেট্রোর পকসো আদালতের বিশেষ বিচারকের ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন লিটন সাহা। সেই রায়ে তাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(এন) ও ৩৭৬(এবি) ধারা এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সঙ্গে ৩০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ সুভাষ মজুমদার যুক্তি দেন, ভুক্তভোগীর বয়স সংক্রান্ত কোনো আইনসম্মত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেনি অভিযোগপক্ষ। পকসো আইনে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য ভুক্তভোগীর নাবালিকা হওয়া প্রমাণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা পরীক্ষায় শুক্রাণু পাওয়া গেলেও অভিযুক্তের সঙ্গে তার যোগ প্রমাণের জন্য কোনো ডিএনএ বা ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। আদালত ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি লক্ষ্য করে। আদালতের মতে, তার সাক্ষ্যকে ‘স্টার্লিং কোয়ালিটি’ বা সর্বোচ্চ মানের বলে গণ্য করা যায় না। চিকিৎসা পরীক্ষায় পাওয়া শুক্রাণুর সঙ্গে অভিযুক্তের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ দেয়। সন্দেহের সুবিধা দিয়ে আদালত দোষী সাব্যস্তকরণ ও সাজা বাতিল করে। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।












