,

দিল্লির বুকে এবার ‘বরাক ভবন’: রাজধানীতে অসমের পদচিহ্ন আরও গভীর করতে চলেছে রাজ্য সরকার 

বরাক উপত্যকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে, আবাসন থেকে সংস্কৃতি সবই মিলবে এক ছাদের তলায় বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : রাজধানী দিল্লিতে অসমের পরিচয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একের পর এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিদ্যমান অসম হাউসকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আরও তিনটি অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এই আবহেই রবিবার…

বরাক উপত্যকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে, আবাসন থেকে সংস্কৃতি সবই মিলবে এক ছাদের তলায়

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : রাজধানী দিল্লিতে অসমের পরিচয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একের পর এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিদ্যমান অসম হাউসকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আরও তিনটি অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এই আবহেই রবিবার এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি জানালেন, সরকারের পরবর্তী বড় পরিকল্পনা হল রাজধানীতে ‘বরাক ভবন’ প্রতিষ্ঠা করা।

সামাজিক মাধ্যমে দিল্লিতে চলমান বিভিন্ন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে অসমের উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পীঠস্থানও গড়ে তোলা হবে। আর সেই ভাবনা থেকেই আসছে ‘বরাক ভবন’-এর প্রস্তাব।

দিল্লিতে কী হচ্ছে?
বর্তমানে চাণক্যপুরী এলাকায় থাকা পুরনো অসম হাউসের আমূল সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ চলছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই কাজ শেষ হওয়ার কথা।
এর বাইরেও আরও তিনটি নতুন কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে।
১. সেন্ট্রাল দিল্লি কমপ্লেক্স: কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য।
২. দ্বারকার দুটি বৃহৎ কমপ্লেক্স: এর মধ্যে একটিতে থাকবে বিশাল নামঘর এবং অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার।

শুধু তাই নয়, দ্বারকাতেই গড়ে উঠছে রাজ্যের দুটি প্রধান জনজাতি সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ভবন — কার্বি ভবন ও ডিমাসা ভবন। এর মাধ্যমে রাজধানীতে উত্তর-পূর্বের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় সরকার।

শুধু ইট-কাঠ-পাথর নয়, মিলনস্থলও
সরকারি সূত্রের খবর, এই নতুন কমপ্লেক্সগুলিকে নিছক গেস্ট হাউস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দ্বারকার কনভেনশন হলে ভবিষ্যতে বইমেলা, সাহিত্য সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মিলনমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লিতে বসবাসকারী অসমবাসীদের জন্য এটি একটি প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে সরকার।

কেন ‘বরাক ভবন’?
বরাক উপত্যকা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে দিল্লিতে পাড়ি জমান। চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি, আদালতের কাজ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা — কারণের শেষ নেই। কিন্তু উপযুক্ত আবাসন ও সহায়তার অভাবে অনেকেই সমস্যায় পড়েন।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ‘বরাক ভবন’-এর ধারণা। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকেই কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির মানুষের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। অনেকেই একে বরাকের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন।

যদিও ‘বরাক ভবন’ কোথায় হবে, কত খরচ হবে এবং কাজ কবে শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে সরকারি স্তরে নামটি উচ্চারিত হওয়াটাই অনেক বড় বার্তা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মুখ্যমন্ত্রীর হিসেব অনুযায়ী, অসম হাউস, ৩টি নতুন কমপ্লেক্স, কার্বি ভবন, ডিমাসা ভবন এবং প্রস্তাবিত বরাক ভবন — সব মিলিয়ে দিল্লিতে অসমের মোট ৭টি বড় পরিকাঠামো থাকবে। এর ফলে রাজধানীতে অসমের প্রশাসনিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *