,

ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা — সীমান্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিরাপত্তা বলয় গড়ার পরিকল্পনা

লঙ্কামুড়া সীমান্তে বৃক্ষরোপণ, জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়, মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ রোধে কড়া বার্তা নিজস্ব প্রতিনিধি। আগরতলা: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ত্রিপুরার লঙ্কামুড়া সীমান্তে পৌঁছে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগরতলার উপকণ্ঠে এই সীমান্তেই ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহকারী অধিনায়ক জীবন কুমার সিংহ শহিদ হয়েছিলেন। সেদিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের মধ্যে…

লঙ্কামুড়া সীমান্তে বৃক্ষরোপণ, জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়, মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ রোধে কড়া বার্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি। আগরতলা: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ত্রিপুরার লঙ্কামুড়া সীমান্তে পৌঁছে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগরতলার উপকণ্ঠে এই সীমান্তেই ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহকারী অধিনায়ক জীবন কুমার সিংহ শহিদ হয়েছিলেন। সেদিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের মধ্যে গুলিবিনিময় দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল।

লঙ্কামুড়া সীমান্ত ফাঁড়িতে ৪২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। গাছ লাগানোর গুরুত্ব বোঝান। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সশস্ত্র সীমা বলের অধীন সীমান্তে ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বলয়’ গড়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মানবপাচার, বেআইনি অস্ত্র পাচার, জাল মুদ্রা ও মাদক চোরাচালান বন্ধের উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বিহারে অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে সীমান্ত আরও কার্যকরভাবে সামলানো যাবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকদের তিনি নির্দেশ দেন — সীমান্ত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখতে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য ভালো পরামর্শ নিতে।

জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্যের আগে লঙ্কামুড়া সীমান্ত ফাঁড়িতে একটি চারাগাছ বসান অমিত শাহ। তিনি জানান, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন শাখা দেশজুড়ে ছয় কোটি চল্লিশ লক্ষ চারাগাছ বসিয়েছে। ভবিষ্যতেও এই কাজ চলবে।

জওয়ানদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক কাজে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও আশ্বাস দেন তিনি। দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা সীমান্তরক্ষীদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানান।

মতবিনিময়ের পর জওয়ানদের সঙ্গে চা ও জলখাবার খান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিক ও ত্রিপুরা শাখার কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার শিলংয়ে উত্তর-পূর্ব পরিষদের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর আগরতলায় আসেন অমিত শাহ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *