নয়াদিল্লি। ১১জুন: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ। তার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। দাম বাড়ছে পেট্রল-ডিজেলের। এই পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। বেশি মাত্রায় ইথানল মেশানো পেট্রলে শুল্ক ছাড়ের কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে আর কোনও আবগারি শুল্ক নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সরকার।
দেশে জ্বালানি সংকট কাটাতে বহুদিন ধরেই ইথানল ভিত্তিক জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। আগামী দিনে শুধু ইথানলের ভরসাতেই গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। ইথানল হল আখ, ভুট্টার মতো বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের জৈব জ্বালানি। পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে এটি ব্যবহার করা হয়। সরকারের দাবি, বিদেশ থেকে আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমাতেই ইথানলের জ্বালানি তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছে তারা। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ইথানলের গুরুত্ব আরও বেশি করে বুঝতে পারছে সরকার।
কোন কোন জ্বালানিতে ছাড়
অর্থমন্ত্রকের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চার ধরনের নতুন ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে কর মুকুব করা হয়েছে। সেগুলি হল :
১.২২ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল: ২২ শতাংশ ইথানল, ৭৮ শতাংশ পেট্রল
২.২৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল: ২৫ শতাংশ ইথানল, ৭৫ শতাংশ পেট্রল
৩.২৭ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল: ২৭ শতাংশ ইথানল, ৭৩ শতাংশ পেট্রল
৪.৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল: ৩০ শতাংশ ইথানল, ৭০ শতাংশ পেট্রল
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এই চার ধরনের ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির দাম এবার কমবে। তবে সাধারণ পেট্রলে কোনও করছাড় দেওয়া হয়নি।
কেন এই ছাড়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতকে তার তেলের চাহিদার বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। শুধু তাই নয়, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার জেরে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে তেল আমদানির চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কৃষিজ পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।












