বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে সংস্কার ও সেখানে ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি নির্মাণে রাজ্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হল।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: বিধানসভা ভোটের আগে বলাগড়ে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই জিরাটের স্মৃতিমন্দির পাড়ায় অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক বাড়িতে সুউচ্চ মূর্তি ও বাড়ির আমূল সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হল।
গুজরাটের আদলে পর্যটন সম্ভাবনা: গুজরাটে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র আদলে জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের বিশাল মূর্তি গড়ে উঠলে এলাকার পর্যটন মানচিত্রই বদলে যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। খবরে উচ্ছ্বসিত জিরাট-বলাগড়ের বাসিন্দারা।
জিরাটের সঙ্গে আত্মিক যোগ: ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্র শ্যামাপ্রসাদের জন্ম জিরাটে না হলেও এই গ্রামের সঙ্গে তাঁদের গভীর আত্মিক সম্পর্ক ছিল। আশুতোষের স্মৃতিতে জিরাটে স্কুল ও লাইব্রেরি থাকলেও শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিরক্ষায় তেমন কোনও স্থাপনা নেই। কয়েক বছর আগে প্রয়াত রাজ্যসভার সাংসদ চন্দন মিত্র ও বিজেপি নেতা স্বপন পালের উদ্যোগে পৈতৃক বাড়িতে শ্যামাপ্রসাদের একটি মূর্তি বসানো হয়েছিল।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া: শ্যামাপ্রসাদের ভাই বামাপ্রসাদের নাতি বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, “নেহরুর পরিবার ক্ষমতায় থাকাকালীন নেতাজির অন্তর্ধান, শ্যামাপ্রসাদ ও লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুরহস্য অধরাই রয়ে গেছে। আশুতোষ বা শ্যামাপ্রসাদ কারও জন্মই জিরাটে নয়, তবু পৈতৃক ভিটে হিসাবে জিরাটের গুরুত্ব আছে। আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কারের সামর্থ্য নেই। বিজেপি সরকার প্রথমবার এসেই যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এতে বলাগড়-জিরাটের সার্বিক উন্নতি হবে।”
রাজ্য সরকারের বক্তব্য: রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার জানান, “ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতার জন্মভিটে এই জিরাটে। পূর্বতন সরকার শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে কিছুই করেনি। ভোটের আগে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্মৃতিসৌধ হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানানোর পরই বাজেটে ২০০ কোটি বরাদ্দ হয়েছে।”












