,

জাপানের সহযোগিতায় অসমকে এশিয়ার শিল্প কেন্দ্র করার উদ্যোগ সরকারের

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন।গুয়াহাটি : জাপানের সহযোগিতা আদায় করে অসমকে এশিয়ার একটি প্রধান শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার। অসম বিজেপির মুখপাত্র মানস শরণীয়া শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দূরদর্শী ও কর্মনিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই জাপানের সঙ্গে অসমের আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং জাপান এখন অসমে ব্যাপক হারে বিনিয়োগে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন।গুয়াহাটি : জাপানের সহযোগিতা আদায় করে অসমকে এশিয়ার একটি প্রধান শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার। অসম বিজেপির মুখপাত্র মানস শরণীয়া শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দূরদর্শী ও কর্মনিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই জাপানের সঙ্গে অসমের আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং জাপান এখন অসমে ব্যাপক হারে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে। তিনি বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক ভারত সফরে সংসদীয় ব্যস্ততার কারণে অসম সফর স্থগিত হলেও অসমের প্রতি জাপানের আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জাপান সফর করার পাশাপাশি জাপানি প্রতিনিধিদের অসমে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন ও বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং ড. শর্মা অসমকে শিল্প কেন্দ্র করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। এই ক্ষেত্রে জাপানের বিশেষ সহযোগিতা আদায় করেছেন তিনি।

বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠকে উচ্চ প্রযুক্তি, অর্ধপরিবাহী যন্ত্র, যোগান শৃঙ্খল ও শক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাগীরোডে ২৭ হাজার কোটি টাকার টাটা অর্ধপরিবাহী প্রকল্পে জাপানের একাধিক প্রযুক্তি সংস্থা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহে আগ্রহী এবং চিপ রপ্তানির জন্য বিশেষ জাপানি সরবরাহ সংস্থাও সহযোগিতা করবে। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার সহায়তায় রাজ্যজুড়ে অর্ধপরিবাহী উদ্ভাবন পরীক্ষাগার স্থাপনের আলোচনাও চলছে।

পাশাপাশি গুয়াহাটির কাছে নগরবেড়ায় প্রায় ৬০০ একর জমিতে জাপানি শিল্পগুলির জন্য একটি বিশেষ শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে যার মাধ্যমে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারকে লক্ষ্য করা হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, অসম থেকে বাংলাদেশ হয়ে মাতারবাড়ি বন্দর পর্যন্ত একটি শিল্প করিডোর গড়ে তোলা হবে। এর ফলে স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বের ভারত মহাসাগরে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।

‘জাপান-ভারত জৈব গ্যাস ভিত্তিক উন্নয়ন অভিযান’-এর অধীনে অসমের গ্রামাঞ্চলের কৃষি ও জৈব বর্জ্য থেকে জৈব গ্যাস ও জৈব সার তৈরির প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। জাপানের এক প্রযুক্তি সংস্থা, জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন পর্ষদ ও উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন আর্থিক নিগমের সঙ্গে চুক্তি করে সংকুচিত জৈব গ্যাস প্রকল্প স্থাপন করা হবে। এতে পুরবী দুগ্ধ সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

মানস শরণীয়া আরও জানান, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার অর্থ সাহায্যে অসমে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মপুত্রের উপর ১৯ কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতু, গুয়াহাটির বিশুদ্ধ পানীয় জল ও আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা, রাজ্যের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাংকের সহায়তায় বাঁশভিত্তিক জৈব জ্বালানি উৎপাদন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশি ভাষা উদ্যোগ প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের মতো বহু প্রকল্প চলছে। তাঁর মতে, জাপানের এই বিনিয়োগ অসমের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *