সন্তোষ চন্দ: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাটি বাংলার মরমি সাধক, বৈষ্ণব সহজিয়া ঘরানার সাধক ও ধামাইল গানের জনক রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ। ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’-সহ তিন সহস্রাধিক গানের স্রষ্টা তিনি। আন্তর্জাতিক ধামাইল দিবস উপলক্ষে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও বরাক উপত্যকায় চলছে স্মরণসভা, কর্মশালা ও ধামাইল পরিবেশনা।
রাধারমণ দত্ত: জন্ম, বংশ ও শৈশব
১. জন্ম: ১৮৩৩ সালের ২৬ মে কেশবপুর গ্রামে।
২. পূর্বপুরুষ: তাঁর পূর্বপুরুষদের নামে তিনটি এলাকার নাম—জগন্নাথপুর, প্রভাকরপুর ও কেশবপুর।
৩. পিতা: রাধামাধব দত্ত পুরকায়স্থ ছিলেন বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার পণ্ডিত, কবি ও অনুবাদক। মহাকবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’-এর টীকাভাষ্য, ‘কৃষ্ণলীলার গীতিকাব্য’, ‘পদ্মপুরাণ’, ‘সূর্যব্রত পাঁচালী’, ‘গোবিন্দ ভোগের গান’, ‘ভারত সাবিত্রী’, ‘ভ্রমরগীতিকা’ তাঁর লেখা।
৪. মাতা: সুবর্ণা দেবী।
৫. ভাই: তিন ভাইয়ের মধ্যে রাধারমণ কনিষ্ঠ।
৬. শৈশব: ১০ বছর বয়সে পিতৃহারা হন। মায়ের আদর-যত্নে বেড়ে ওঠেন। পিতার সংগীত ও সাহিত্য সাধনা তাঁকে প্রভাবিত করে।
বিবাহ, সন্তান ও বৈরাগ্য
১. বিবাহ: ৩৫ বছর বয়সে মৌলভীবাজার সদরের আদপাশা গ্রামের নন্দকুমার সেন অধিকারীর কন্যা গুণময়ী দেবীকে বিয়ে করেন।
২. সন্তান: চার পুত্র—রাজবিহারী দত্ত, নদীয়াবিহারী দত্ত, রসিকবিহারী দত্ত ও বিপিনবিহারী দত্ত।
৩. শোক: স্ত্রী ও তিন পুত্র অকালে মারা যান। শুধু বিপিনবিহারী বেঁচে ছিলেন। তিনিও রাধারমণের জীবদ্দশায় মামার বাড়ি মৌলভীবাজারের ভুজবলে মারা যান। বিপিনবিহারী সেখানেই স্থায়ী হন।
৪. সাধনা: স্ত্রী-পুত্রের মৃত্যুর পর সংসার-উদাসীন হয়ে মৌলভীবাজারের ঢেউপাশা গ্রামে সাধক রঘুনাথ ভট্টাচার্য্য বা স্বামী রঘুনাথ মহাশয়ের আশ্রমে যান। তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে বৈষ্ণব সহজিয়া মতবাদে দীক্ষা নেন। পরে জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের পাশে নির্জন কুটির নির্মাণ করে সাধনা করেন। লোভ, হিংসা, অহঙ্কার, কাম, বাসনা, ক্রোধ, মায়া ত্যাগ করে সহজিয়া মতবাদের স্তর পেরিয়ে সিদ্ধি লাভ করেন। সেখানেই সৃষ্টি করেন তিন সহস্রাধিক গান। নিজে না লিখলেও ভক্তরা শুনে শুনে পুঁথিবদ্ধ করতেন।
৫. মৃত্যু: ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দের (২৬ কার্তিক) ১০ নভেম্বর , ৮২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। সহজিয়া মতাদর্শে হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী দাহ না করে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। কেশবপুরে তাঁর সমাধিমন্দির আছে।

ধামাইল গানের জনক ও কালজয়ী সৃষ্টি
‘ভাইবে রাধারমণ বলে’ ভণিতায় তিনি ধামাইল ছাড়াও কীর্তন, গৌরপদ, গোষ্ঠ, অভিসার, মালসী, প্রার্থনা প্রভৃতি গান রচনা করেছেন। প্রেম, বিরহ, বিচ্ছেদ, দেহতত্ত্ব, ভজন, ভক্তি, রাধাকৃষ্ণের আকুলতা তাঁর গানের বিষয়।
উল্লেখযোগ্য গান: ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ’, ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’, ‘আমারে আসিবার কথা কইয়া’, ‘আমার বন্ধু দয়াময়’, ‘আমি রব না রব না গৃহে’, ‘পালিতে পালিছিলাম পাখি দুধ-কলা দিয়া’, ‘শ্যাম কালিয়া প্রাণ বন্ধুরে’, ‘মনে নাই গো আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই’, ‘বংশী বাজায় কে গো সখী’, ‘কলঙ্কিনী রাধা’, ‘আমার গলার হার’, ‘বিনোদিনী গো তোর’, ‘দেহতরী ছাইড়া দিলাম’, ‘কার লাগিয়া গাঁথো রে সখী’।
কী এই ধামাইল? পরিবেশনা ও বাদ্যযন্ত্র
ধামাইল মূলত সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরাক উপত্যকার নারীদের আচারকেন্দ্রিক লোকগান ও লোকনৃত্য। ব্রত, পূজা-পার্বণ, জন্ম, বিয়েতে সনাতন ধর্মীয় নারীদের মাঝে এর অধিক প্রচলন। রাধারমণ দত্ত কর্তৃক এই গান সর্বাধিক প্রচারিত হওয়ায় তাঁকেই এর স্রষ্টা গণ্য করা হয়। প্রতাপরঞ্জন তালুকদারের ধামাইল ‘প্রতাপ-বান্ধা’ নামে পরিচিত।
পরিবেশনা রীতি: মূল ঐতিহ্যে ধামাইলে কোনো কৃত্রিম বাদ্যযন্ত্র লাগে না। ২০-২৫ জন নারী বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে হাততালি দিয়ে গান ও নাচ করেন। মাঙ্গলিক আয়োজনে কাসর বাজানো হতো।
ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র: বর্তমানে ঢোল, হারমোনিয়াম, খঞ্জনি, মন্দিরা, কাসর, জুড়ি, করতাল, একতারা, দোতারা ব্যবহৃত হয়। সাধনার পর্যায়ে একতারা ও করতাল ছিল রাধারমণের নিত্যসঙ্গী।
ধামাইলের গতি: বন্দনা, আহ্বান বা আসরস্তুতি, উদয়, বাঁশি, জলভরা, শ্যামরূপ, গৌররূপ, আক্ষেপ, বিচ্ছেদ, কুঞ্জ, মানভঞ্জন, মিলন, সাক্ষাৎ এবং বিদায়। ৯৫ ভাগ ধামাইল গানই রাধারমণের।

গান সংরক্ষণ ও গ্রন্থ
রাধারমণ লিখিত সংগ্রহ না রাখায় গান সংরক্ষণ কঠিন ছিল। গবেষকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান সংগ্রহ করেছেন।
সংগ্রাহক ও সংখ্যা: মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরত্ন ৪৭টি, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য ৫৭টি, হোসেন আলী ৬টি, সৈয়দ মুরতজা আলী ৫টি, মুহাম্মদ নুরুল হক ১১টি, আবদুল গাফফার চৌধুরী ৫৯টি, অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন ৫৫টি, সুধীরচন্দ্র পাল ১২টি, গুরুসদয় দত্ত ও ড. নির্মলেন্দু ভৌমিক ৬৩টি, মুহম্মদ আবদুল হাই ১০৬টি, চৌধুরী গোলাম আকবর ৩৩২টি, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য ও বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী ৮৯৬টি, জোতিরিন্দ্রনাথ চৌধুরী ১১টি, ড. তপন বাগচী ১০১৯টি, নন্দলাল শর্মা ১১৭৭টি, অমলেন্দু কুমার দাশ ১৩৯টি, মুহম্মদ আসাদ্দর আলী ১১টি, আবদুস সামাদ ৩৭টি রাধারমণ গীতি সংগ্রহ করেন।
অন্যান্য গ্রন্থকার: পারুল রানী দে, নরেশচন্দ্র পাল, যামিনী কান্ত শর্মা, সতীশ চন্দ্র রায়, অমিতবিজয় চৌধুরী, তারেক আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ সুবাসউদ্দীন, মোহাম্মদ আলী খান, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত সুমন কুমার দাশ, রামকৃষ্ণ সরকার, ড.বিশ্বজিৎ রায়, ড. মোহাম্মদ আলী খান, সৈয়দা আঁখি হক, নৃপেন্দ্রলাল দাশ। বাংলা একাডেমি থেকে সুমনকুমার দাশের সম্পাদনায় ‘বাংলাদেশের ধামাইল গান’ বইয়ে প্রায় ১০০০ গান স্থান পেয়েছে।
হাসন রাজার সঙ্গে সম্পর্ক
সমসাময়িক মরমি কবি দেওয়ান হাছন রাজার সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্ক ছিল। হাসন রাজা লিখেছিলেন: ‘রাধারমণ তুমি কেমন, হাছন রাজা দেখতে চায়’। উত্তরে রাধারমণ লেখেন: ‘কুশল তুমি আছো কেমন- জানতে চায় রাধারমণ’।
বরাক উপত্যকায় ধামাইল প্রচার: কর্মশালা থেকে মঞ্চ
রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের ধামাইল গান প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে সন্তোষ চন্দ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর আমন্ত্রণে বাংলাদেশ ঢাকার সঙ্গীত গুরু ড. বিশ্বজিৎ রায়, সঙ্গীত গুরু দেবদাস চৌধুরী-সহ অনেকেই শিলচরে এসেছেন।
শিলচর ইয়ুথ কয়্যার, বরাককণ্ঠ, সংস্কার ভারতী ও আন্তর্জাতিক রাধারমণ পরিষদ শিলচরে অনেকবার কর্মশালার আয়োজন করেছে। এই কর্মশালাগুলোতে দুই বাংলার শিল্পী-গবেষকরা মিলিত হয়ে ধামাইলের শুদ্ধ রূপ, তাল, লয় ও স্বরলিপি নিয়ে চর্চা করছেন। নবীন শিল্পীদের হাতে একতারা, দোতারা, খঞ্জনি তুলে দেওয়া হচ্ছে।
শিলচরের নৃত্যাঞ্জলি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংস্থা তাদের শিল্পীদল নিয়ে কলকাতা, পুরুলিয়া, প্রয়াগরাজ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠান পরিবেশন করে সুনাম অর্জন করছে সোনালি দে, গায়ত্রী দেব এবং সন্তোষ চন্দের নেতৃত্বে। ঢোল, মন্দিরা, কাসর, হারমোনিয়ামের সঙ্গে ধামাইলের সমবেত নৃত্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শক। সম্মিলিত লোক মঞ্চ কয়েকবছর থেকে ধামাইল নৃত্যের উপর প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

জাতীয় স্বীকৃতির দাবি
রাধারমণের স্মৃতি রক্ষায় কেশবপুরে ৬০ শতক জায়গায় ‘রাধারমণ কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৩ সালের ২৬ মে তাঁর জন্মদিবস উপলক্ষে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ পালনের দাবিতে হবিগঞ্জের ‘ধামালি চুনারুঘাট’ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়। সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার এ নিয়ে কাজ করছেন। প্রতি বছর সিলেটে ‘রাধারমণ স্মরণ দিবস’ পালিত হয়।
দেশে অবজ্ঞা, বিদেশে সমাদর
রিয়েলিটি শো থেকে অ্যালবাম—অনেক জায়গায় রাধারমণের গানে ‘সংগ্রহ’ লেখা হয়। অথচ কলকাতার ‘দোহার’ ব্যান্ড তাঁর গান ছড়াচ্ছে। তাজিকিস্তানের শিল্পী নইজা কারুমাতুল্ল ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ তাজিক ভাষায় গেয়েছেন: “খুজই, খুজই, খুজ, বারান্দাই, সিকাআস্তাবলে / রুই দোস্তয়া কিপরে ফিতা দুমুত মারমুদা…”।
সুনামগঞ্জের মরমি ধারা
সুনামগঞ্জে যুগে যুগে জন্মেছেন দেওয়ান হাছন রাজা, বাউল সম্রাট শাহ্ আবদুল করিম, দুর্বিন শাহ, সৈয়দ শাহনুর, আছিম শাহ, কালা শাহ, আরকুম শাহ, শীতালং শাহ, ছাবাল শাহ, এলাহী বক্স মুন্সী, শাহ আছদ আলী, পীর মজির উদ্দিন, আফজল শাহ, কামালউদ্দীন, একলিমুর রাজা চৌধুরী, গণিউর রাজা চৌধুরী, দীননাথ বাউল, গিয়াসউদ্দীন আহমদ, মকদ্দস আলম উদাসী প্রমুখ। তাঁদের সৃষ্ট জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ঘেঁটুগান, গাজীর গান, মালজোড়া, কীর্তন, ধামাইল বাংলা লোকগানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে।
লোকগবেষকদের মতে, রাধারমণের অহিংসা, নিরহঙ্কার, নির্লোভ দর্শন ও গানগুলোকে বৈশ্বিক আঙিনায় ছড়িয়ে দিলেই তাঁর প্রতি সঠিক শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাধারমণের জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি: নথি না থাকলেও ২৬ মে-কেই মান্যতা দিচ্ছেন গবেষকরা
ধামাইল গানের জনক মরমি সাধক রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের সঠিক জন্মতারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। লিখিত কোনো জন্মসনদ বা দলিল না থাকায় অনেকেই বলছেন, ‘তাঁর জন্মদিন এখনও পাওয়া যায়নি’। তবে গবেষক, লোকশিল্পী ও প্রতিষ্ঠানগুলো ২৬ মে তারিখকেই জন্মজয়ন্তী হিসেবে পালন করে আসছেন।
কোথায় বিভ্রান্তি?
১. ১৮৩৩ বনাম ১৮৩৪: উইকিপিডিয়ায় রাধারমণের জন্ম ‘১৮৩৪, ২৬ মে (আনুমানিক)’ উল্লেখ আছে। আবার কুষ্টিয়াশহর.কম, ই-বাংলা লাইব্রেরি, অনুশীলন.অর্গ সহ একাধিক সূত্রে ‘১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ, ১২৪০ বঙ্গাব্দ’ লেখা রয়েছে। বাংলা-ইংরেজি সালের হিসাবের গরমিল থেকেই মূলত এই মতান্তর।
২. লিখিত দলিল নেই: রাধারমণ দত্ত নিজে জন্মতারিখ লিখে রাখেননি। তাঁর গান ও জীবনী শিষ্য-ভক্তরা শুনে শুনে পুঁথিবদ্ধ করেছেন। ফলে জন্মতারিখের কোনো প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি।
তাহলে ২৬ মে কেন?
১. সর্বাধিক উৎসে উল্লেখ: অধিকাংশ গবেষণা গ্রন্থ ও ওয়েবসাইটে ১৮৩৩ সালের ২৬ মে তারিখটিই পাওয়া যায়। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে তাঁর জন্মস্থান হিসেবেও এই তারিখটিই প্রচলিত।
২. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ: ২০২৩ সালের ২৬ মে তাঁর জন্মদিবস উপলক্ষে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ পালনের দাবিতে হবিগঞ্জের ‘ধামালি চুনারুঘাট’ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়। প্রতি বছর সিলেটে ‘রাধারমণ স্মরণ দিবস’ও পালিত হয় ২৬ মে।
গবেষকদের বক্তব্য
লোকগবেষক নন্দলাল শর্মা, ড. তপন বাগচী সহ অনেকেই ১২৪০ বঙ্গাব্দের ১২ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ২৬ মে ১৮৩৩ তারিখটিকে প্রামাণ্য ধরেছেন। তাঁদের মতে, শিষ্যদের মুখে মুখে প্রচলিত তথ্য ও পারিবারিক সূত্র থেকে এই তারিখই উঠে এসেছে।
মৃত্যু তারিখে বিরোধ নেই
জন্মতারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও মৃত্যু নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই। ১৩২২ বঙ্গাব্দের ২৬ কার্তিক, ইংরেজি ১৯১৫ সালের ১০ নভেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন। কেশবপুরে তাঁর সমাধি রয়েছে।
শেষ কথা
লিখিত জন্মসনদ না থাকলেও ২৬ মে ১৮৩৩ তারিখটিকেই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ধরে নিয়েছে লোকসংস্কৃতি মহল। তাই ‘জন্মদিন পাওয়া যায়নি’ কথাটি আংশিক সত্য হলেও, প্রচলিত রীতি মেনে ২৬ মে-তেই রাধারমণের ১৯২তম জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছে সিলেট ও বরাক উপত্যকায়।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া













