বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন:একত্রবাসে থাকা যুগলদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক-সহ বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধি নিয়ে সোমবার অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করল রাজ্য সরকার। বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং একত্রবাসকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এই বিলের অন্যতম লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার হয়ে বিধানসভায় বিলটি পেশ করেন পরিষদীয় মন্ত্রী অতুল বরা। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং একত্রবাস সম্পর্কিত বিধিগুলিকে আরও সুসংহত এবং সরল করাই এর লক্ষ্য।
বিলের মূল প্রস্তাবগুলি
১. একত্রবাসে বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন: একত্রবাসে থাকা যুগলকে বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
২. বহুবিবাহ নিষিদ্ধ
৩. বিয়ের ন্যূনতম বয়স: পুরুষদের ২১ বছর এবং মহিলাদের ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪. সন্তানের অধিকার: একত্রবাসের সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকারকে স্বীকৃতি ও সুরক্ষা দেওয়া হবে।
৫. তফসিলি জনজাতির জন্য ছাড়: এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অসমে বসবাসকারী তফসিলি জনজাতির ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বলেন, “এই বিলটি অসমে একত্রবাসের সম্পর্ককে প্রথম বারের জন্য আইনি কাঠামোর আওতায় আনছে। বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণের মাধ্যমে এই আইনটি একত্রবাসের সঙ্গীর অধিকার রক্ষা করবে।”
কেন্দ্রের বক্তব্য
রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও জানিয়েছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আদিবাসীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, “এখন একটা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আদিবাসীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কেড়ে নেবে। আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কোনও নিয়ম আদিবাসীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।”
বিরোধীদের আপত্তি
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাইজোর দল-সহ বিরোধী দলগুলি এই বিল পেশের বিরোধিতা করেছে। বিল পেশের আগে সব পক্ষকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি তুলেছে তারা।
প্রেক্ষাপট
গত বছরের জানুয়ারিতে বিজেপিশাসিত উত্তরাখণ্ডে প্রথম কার্যকর হয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। তার পরে গত মার্চে গুজরাতেও এই সংক্রান্ত বিল পাশ হয়। এ বার অসমেও পেশ হল বিল। ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় বিজেপির ৮২ জন বিধায়ক রয়েছেন। কংগ্রেসের ১৯ জন, তৃণমূলের ১ জন এবং রাইজোর দলের ২ জন বিধায়ক রয়েছেন।












