লোকসভা-বিধানসভার পর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত-পুরভোট, কোবিন্দ কমিটির সুপারিশই শর্ত: প্রেমপ্রকাশ চৌধরী
১২৯তম সংবিধান সংশোধনীর খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা করছে ৩৯ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটি
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নীতি কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং জিডিপি বৃদ্ধির হার ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বুধবার গুজরাতের গান্ধীনগরে এই দাবি করলেন ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারপার্সন তথা লোকসভার সাংসদ প্রেমপ্রকাশ চৌধরী। রাজনৈতিক মহলে পিপি নামে পরিচিত রাজস্থানের পালি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ স্পষ্ট জানালেন, শুধু লোকসভা-বিধানসভা নয়, পঞ্চায়েত ও পুরভোটকেও একসঙ্গে জুড়লেই এই বিপুল আর্থিক সাশ্রয় এবং জিডিপি বৃদ্ধি সম্ভব। ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত-পুরভোট: কোবিন্দ কমিটির ফর্মুলা পিপি চৌধরী বলেন, ‘‘প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সমন্বিত ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর পর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার ভোটের আয়োজন করা হবে।’’ তাঁর দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়া এক ছাতার তলায় আনতে পারলেই ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জিডিপি বৃদ্ধির হার ১.৬ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া যাবে।
কী আছে বিলে?
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিলে একসঙ্গে বিভিন্ন লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে জেপিসি চেয়ারপার্সন সাত লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় এবং জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বশর্ত হিসাবে তার সঙ্গে পঞ্চায়েত ও পুরভোটকেও জুড়ে দিয়েছেন।
কে এই জেপিসি? কারা আছেন কমিটিতে?
‘এক দেশ, এক ভোট’ আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ১২৯তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব-সহ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যে দুটি বিল লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল, সেগুলির খসড়া নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে সংসদের যৌথ কমিটি (জেপিসি) গঠন করা হয়েছে।সংসদের উভয় কক্ষ থেকে মোট ৩৯ জন সদস্য রয়েছেন জেপিসিতে। লোকসভার ২৭ জন এবং রাজ্যসভার ১২ জন। রাজস্থানের পালি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রেমপ্রকাশ চৌধরী এই কমিটির চেয়ারপার্সন।কমিটিতে বিরোধী শিবির থেকেও একাধিক হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন। কংগ্রেসের প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, আপের সঞ্জয় সিংহ, তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা ওই কমিটির সদস্য।
১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট পর্যালোচনা চলছে
‘এক দেশ, এক ভোট’ আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে যে আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল, তার ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পর্যালোচনা করছে জেপিসি। জেপিসি চেয়ারম্যানের দাবি, বারবার নির্বাচনের কারণে উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যায়, প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনে বিশাল খরচ হয়। একসঙ্গে ভোট হলে সেই খরচ বাঁচবে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আসবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে।












