,

উজান আসামের বন্যার জন্য খনন দায়ী নয়, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : গত মাসে উজান আসামে ভয়াবহ বন্যার পেছনে কী কারণ ছিল তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার স্পষ্ট করে বলেছেন, খনন এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী রাজ্যগুলির পাহাড় থেকে নেমে আসা জলই বন্যার মূল কারণ। বন্যা কবলিত উজান আসামের চার দিনের সফরের তৃতীয় দিনে শিবসাগরের পানবেসার…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : গত মাসে উজান আসামে ভয়াবহ বন্যার পেছনে কী কারণ ছিল তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার স্পষ্ট করে বলেছেন, খনন এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী রাজ্যগুলির পাহাড় থেকে নেমে আসা জলই বন্যার মূল কারণ।

বন্যা কবলিত উজান আসামের চার দিনের সফরের তৃতীয় দিনে শিবসাগরের পানবেসার ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে তিনি বলেন, “এখানে বহু বছর ধরে বন্যা হয়। এখনকার পরিস্থিতি খননের সঙ্গে যুক্ত বলে আমার মনে হয় না। পাহাড়ের জল নেমে আসামের সমভূমিতে ঢুকেছে। কীভাবে জল দ্রুত নামানো যায় তা আমরা দেখছি।”

খনন নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী
শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার আসাম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের অনেক মানুষের জীবিকা খননের উপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সীমান্তের মানুষ মূলত খননের উপর নির্ভর করে বাঁচে। একজন মহিলা খনন নিয়ে উদ্বেগ জানালেও, আরও অনেকে প্রশ্ন করেছেন খনন বন্ধ হলে তারা কীভাবে চলবে।”

তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ খনন হয় নাগাল্যান্ডে, তাই অসম সরকার তা বন্ধ করতে পারবে না। তবে শিবসাগরের বিহুবরে পাথর ভাঙা যন্ত্র বন্যার জন্য দায়ী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়লা খনন অসমে হয় না। নাগাল্যান্ডের খনন নীতি নিয়ে আলোচনা করতে হলে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে হবে। “অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি নিশ্চিত করছি, রাজ্যের মধ্যে কোনো বেআইনি খনন চলতে দেওয়া হবে না।”

জল না নামার কারণ কী
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিবসাগর শহরে জল দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণ ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর শহরের চেয়ে উঁচু। ফলে জল স্বাভাবিকভাবে নামতে পারছে না। জল দ্রুত নামানোর জন্য বড় ক্ষমতার পাম্প ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। তৈল কোম্পানির পাম্প আগেই বসানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সড়কের কিছু অংশ বাঁধের মতো কাজ করছে, যার ফলে জলের স্বাভাবিক গতি বাধা পাচ্ছে। আগে শিবসাগর ও চরাইদেও বন্যা প্রবণ ছিল না, তাই সেইভাবে সড়ক তৈরি হয়েছিল। এখন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে আরও জলনিকাশি ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ করা হবে।

ক্ষতিপূরণ ও সাহায্য
শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ লেনদেনের মাধ্যমে দেওয়া ১৫ হাজার টাকার উপরে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে সম্ভাব্য সব সাহায্য ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

নাগাল্যান্ডের অবস্থান
এদিকে নাগাল্যান্ডের মন জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, ১৯ জুলাই জেলায় ৬০টির বেশি ভূমিধস হলেও দিখৌ নদীতে তার বড় প্রভাব পড়েনি। ফলে অসমের উজান অঞ্চলের বন্যার সঙ্গে তার সরাসরি যোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *