,

আসামে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথে, ২৬ মে বিধানসভায় বিল

নারী-শিশুর সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি, আদিবাসীরা থাকছেন আওতার বাইরে নিজস্ব প্রতিবেদক, গুয়াহাটি : আসামে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হতে যাচ্ছে। বুধবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ইউসিসি সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। আগামী ২৬ মে রাজ্য বিধানসভায় বিল আকারে তা পেশ করা হবে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও…

নারী-শিশুর সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি, আদিবাসীরা থাকছেন আওতার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গুয়াহাটি : আসামে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হতে যাচ্ছে। বুধবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ইউসিসি সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। আগামী ২৬ মে রাজ্য বিধানসভায় বিল আকারে তা পেশ করা হবে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও লিভ-ইন সম্পর্ককে এক আইনি কাঠামোর আওতায় আনাই প্রস্তাবিত বিধির লক্ষ্য। তিনি বলেন, “অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ন্যায্য অধিকারের নিশ্চয়তা দেবে।”

আদিবাসীরা বিধির বাইরে
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতিনীতি ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে তাঁদের এই বিধির আওতার বাইরে রাখা হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক আদিবাসী সমাজে বহুবিবাহ স্বীকৃত। আবার নিজস্ব সমাজের বাইরে বিয়ে করলে আদিবাসী মেয়েরা জমির অধিকার হারান। এসব ক্ষেত্রে ইউসিসি প্রয়োগ করলে সামাজিক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই শিডিউল ট্রাইবদের বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধিতে কী থাকছে
১. আইনি বিয়ের বয়স নারীদের জন্য ১৮ ও পুরুষদের জন্য ২১ বছর।
২. বহুবিবাহ নিষিদ্ধ।
৩. স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য সমান উত্তরাধিকার অধিকার।
৪. বিবাহিত ও লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা নারীরা ভরণপোষণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
৫. সব সন্তানের আইনি বৈধতা নিশ্চিত হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর হেফাজত প্রাথমিকভাবে মায়ের কাছে থাকবে।
৬. কন্যাসন্তানদের জন্য সম্পত্তিতে সমান অধিকার, বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।

মুসলিম সমাজের আপত্তি
মুসলিম সংগঠন ও প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে ইউসিসির বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, এই আইন বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারে ইসলামি শরিয়াহকে অগ্রাহ্য করে। শরিয়াহ অনুযায়ী এসব বিষয় পরিচালনা করা ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন তাঁরা। সমালোচকদের মতে, অভিন্ন আইন ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠদের রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অন্য রাজ্যের অবস্থা
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও গুজরাট ইতিমধ্যেই ইউসিসি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। আসাম এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইন অনুমোদন করল। তাঁর কথায়, ইউসিসি ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

পাশের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। দলের ইশতেহারে ইউসিসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ছিল। তাই ভবিষ্যতে সেখানেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *