বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: আজ থেকে শুরু হয়েছে শক্তিপীঠ কামাখ্যা ধাম-এর অম্বুবাচী মেলা। কথায় আছে বারো মাসে তেরো পার্বণ, তার মধ্যে অম্বুবাচী হিন্দু ধর্মের একটি অন্যতম আচার। মেয়েরা প্রতি মাসে রজঃস্বলা হন, হিন্দু শাস্ত্র মতে পৃথিবীকে মা বলা হয়। সনাতন বিশ্বাস মতে ধরিত্রী মাও বছরের তিনদিন ঋতুমতী হন। এটি ধর্মীয় আচার হলেও প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থা অম্বুবাচীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ঠিক যেমন ঋতুকাল কাটার পর নারীরা সন্তান ধারণে সক্ষম হন, তেমনই অম্বুবাচীর পরবর্তী সময় ফসল ফলানোর জন্য সবচেয়ে ভালো সময় বলে মানা হয়। এই সময়ে বেশিরভাগ হিন্দু পরিবারে সংসারের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে কিছু বিধিনিষেধ মানা হয়। এই সময় কোনো বিশেষ পূজা হয় না, মূলত কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, বিপত্তারিণী, শীতলা, চণ্ডীর মূর্তি কিংবা পট লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখাই নিয়ম। মন্ত্রপাঠ করা অনুচিত, শুধু ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রণাম করতে হয়। বাড়িতে বিয়ে, উপনয়ন, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ, গৃহ আরম্ভ, বৃক্ষরোপণ কিংবা কৃষিকাজ করতে নেই। তবে গুরূপূজা করা যায়, গুরুপ্রদত্ত মন্ত্র জপ করা যায়, তুলসী গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু করে দেওয়া যায়। অম্বুবাচীর পর দেবীদের আচ্ছাদন খুলে দেবীমূর্তি স্নান করিয়ে পূজা করতে হয় এবং দেবীকে আম ও দুধ নিবেদন করাই ভালো। অম্বুবাচী ২০২৬-এর তিথি অনুযায়ী বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ৭ আষাঢ় সোমবার, আজ দুপুর বারোটা ষোলো মিনিট থেকে অম্বুবাচী তিথি পড়েছে, ১০ আষাঢ় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন দুপুর ১২-১৮ মিনিট-এ তিথি ছেড়ে যাবে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে ৭ আষাঢ় সোমবার, আজ রাত ৯টা ৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড-এ তিথি শুরু, ১১ আষাঢ় শুক্রবার, ২৬ জুন সকাল ৯টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড-এ শেষ হবে। অম্বুবাচী মেলার জন্য রাজ্য সরকার ও কামরূপ মহানগর জেলা প্রশাসন জোরকদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছে। আজ কামাখ্যা দেবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কামরূপ মহানগর জেলার আয়ুক্ত স্বপ্নীল পাল জানান, ভক্তদের জন্য কামাখ্যা রেল স্টেশন ও পাণ্ডু বন্দর-এ দুটি শিবির স্থাপন করা হয়েছে। শিবিরগুলোতে হাজার হাজার ভক্তের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিধির সু-ব্যবস্থা আছে। শিবির দুটির মধ্যে যাতায়াতের জন্য অসম রাজ্যিক পরিবহন নিগমের গাড়ি থাকবে, তবে শিবির থেকে মন্দির পর্যন্ত কোনো পরিবহন থাকবে না। ভক্তদের সুবিধার্থে নার্সারি পয়েন্ট, নীলাচল পাহাড়ের উপর, মন্দিরের পশ্চিম প্রবেশ দ্বারের কাছে ও প্রশান্তি লজের কাছে মোট চারটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জ্যেষ্ঠ সরকারি আধিকারিক ও বিভিন্ন বিভাগের লোক থাকার পাশাপাশি ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূরে দূরে ৭টি স্থানে স্থাপিত সাহায্য কেন্দ্রে তিনজন করে আধিকারিক থাকবেন। মন্দিরের তলা থেকে উপরে পর্যন্ত কার্পেটের ব্যবস্থা ও গরমের কথা মাথায় রেখে জল সরবরাহ বোর্ডের নল দিয়ে রাস্তায় জল ছেটানোর ব্যবস্থা থাকবে। এদিকে মা কামাখ্যা মন্দির কর্তৃপক্ষের পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান দলৈ কবীন্দ্র প্রসাদ শর্মা জানান, আজ রাত নয়টা আট মিনিট বেয়াল্লিশ সেকেন্ড-এ অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি হবে। এরপর ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন দেবালয়ের দরজা বন্ধ থাকবে। ২৬শে জুন সূর্যোদয়ের পর দেবী স্নান ও নিত্য পূজা শেষ হলে ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হবে। কামাখ্যা মন্দির পুনরায় খোলাকে অত্যন্ত শুভ উপলক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তীর্থযাত্রীদের আকৃষ্ট করে। আগামী ২৩শে জুন থেকে ২৬শে জুন পর্যন্ত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে অনুষ্ঠিত অম্বুবাচী মেলায় প্রায় ৮ লাখ ভক্তের সমাগম হতে পারে বলে অনুমান। সেই কথা মাথায় রেখে কামাখ্যা দেবালয় কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে।













