বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : আজ সোমবার থেকে শুরু হলো অসম বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশন চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। মোট ২১ দিনের অধিবেশনে রাজ্যের আর্থিক নীতি, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনগুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। অধিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ১০ জুলাই। ওই দিনই বিধানসভায় রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে রাজ্য সরকার। এছাড়াও এই অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে ১০টি নতুন বিল উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বদলীয় বৈঠকে শান্তিপূর্ণ অধিবেশনের অঙ্গীকার
অধিবেশন শুরুর আগের দিন রবিবার বিধানসভার অধ্যক্ষ রঞ্জিতকুমার দাসের সভাপতিত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে শাসক ও বিরোধী সহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাজেট অধিবেশনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।
বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর সব দল গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, জনস্বার্থ জড়িত বিষয় নিয়ে অধিবেশনে যুক্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনা হবে। অপ্রয়োজনীয় হট্টগোল, স্লোগান ও বিশৃঙ্খলা পরিহার করে বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় কোনও সদস্য বাধা সৃষ্টি করবেন না।
শৃঙ্খলা ভঙ্গে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
বিধানসভার অধ্যক্ষ রঞ্জিতকুমার দাস বৈঠক শেষে জানান, সর্বদলীয় বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সব সদস্যকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, “বিধানসভা জনগণের মন্দির। এখানকার শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সবার।” কেউ যদি বিধানসভার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন বা নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তাহলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, এবারের অধিবেশনে রাজ্যের বাজেট, আর্থিক নীতি, সরকারি প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনার জন্য তিনি সব সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
ফলপ্রসূ অধিবেশনের আশা রাজনৈতিক মহলের
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত কয়েকটি অধিবেশনে বারবার হট্টগোলের কারণে বিধানসভার কাজ ব্যাহত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই শৃঙ্খলা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক পরিবেশে অধিবেশন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সর্বদলীয় এই সমঝোতার ফলে এবারের বাজেট অধিবেশন অতীতের তুলনায় আরও শান্তিপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, এবারের বাজেটকে ঘিরে রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা তুঙ্গে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থান খাতে বড় ঘোষণার আশা করছেন সাধারণ মানুষ।












