বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: সৃষ্টির মূল শক্তি, মাতৃশক্তির উপাসনা ও প্রকৃতির চিরন্তন উর্বরতার প্রতীক হিসেবে অম্বুবাচী মহোৎসবের এক বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে। জনবিশ্বাস অনুযায়ী এই সময়ে আদিশক্তি মা কামাখ্যা ঋতুমতী হন এবং সমগ্র সৃষ্টিতে শক্তির নতুন জাগরণ ঘটে। তাই অম্বুবাচী কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি নারীশক্তি, সৃজনশীলতা, সহনশীলতা ও জীবনের অবিরত ধারাকে সম্মান জানানো এক মহাপর্ব। বিশ্ববিখ্যাত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে অনুষ্ঠিত এই মহোৎসবে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক সাধু-সন্ন্যাসী, তান্ত্রিক, গবেষক, পর্যটক ও ভক্তের সমাগম হয়। ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে অম্বুবাচী মেলা এক অনন্য স্থান অধিকার করে আসছে এবং এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান অসমকে বিশ্বের সামনে এক বিশেষ পরিচয় দিয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসম সরকার এবারের অম্বুবাচী মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ভক্তদের জন্য সুবিধাজনক করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। “ভক্তদের সেবাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার” এই উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ দিনে-রাতে একসঙ্গে কাজ করছে। এবছর প্রায় ৮ লাখ ভক্তের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এই লক্ষ ভক্তের জন্য বিশুদ্ধ খাওয়ার জলের ব্যবস্থা, অস্থায়ী শৌচাগার, স্নানাগার, বিশ্রাম শিবির, চিকিৎসা কেন্দ্র, রোগী বাহন সেবা, তথ্য ও সহায়ক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মেলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে অসম পুলিশ, যানবাহন পুলিশ, গৃহরক্ষী বাহিনী ও বিভিন্ন জরুরি সেবা নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ বাস সেবা, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পথ নির্দেশনার সুবিধা করা হয়েছে যাতে ভক্তরা সহজে কামাখ্যা ধামে আসা-যাওয়া করতে পারেন। প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতীয় সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও তীর্থস্থান সংরক্ষণ ও বিকাশের যে দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হয়েছে, অসম সরকারও সেই লক্ষ্যে কামাখ্যা মন্দির ও তার আশপাশের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ রূপায়ণ করছে। “অম্বুবাচী মেলা অসমের তথা ভারতীয় সভ্যতার গৌরব”। এই মহোৎসবের মাধ্যমে বিশ্ববাসী অসমের আধ্যাত্মিক মহিমা, আতিথ্য ও সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়। এবার অম্বুবাচী মেলায় আসা ভক্তদের সুবিধার্থে অসম সরকার কামাখ্যা রেল স্টেশন, পাণ্ডু জাহাজ ঘাট ও নাহরণিবাড়িতে তিনটি শিবির স্থাপন করেছে এবং কামাখ্যা মন্দিরের পাদদেশ থেকে মন্দির পর্যন্ত সমগ্র পথে কার্পেট বিছানোর ব্যবস্থা করেছে। এর সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সুবিধার্থে চাকা লাগানো চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মন্দির পর্যন্ত বাস সেবা চালু করে এবার ভক্তদের আরও সচল যাতায়াতের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।












