কমল কৃষ্ণ কুইলা, কলকাতা : অনশনের ২১তম দিনে সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি না করলে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।
তবে এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কিছু পরীক্ষার ফল দেখালেও রিপোর্টের কপি হাতে দেয়নি। তাঁর দাবি, রিপোর্টে সোনমের পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯ দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এক সন্ধ্যার মধ্যে পটাশিয়ামের মাত্রা ৪.৩ থেকে ২.৯-এ নেমে আসা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও অস্বাভাবিক।
গীতাঞ্জলির অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর মোবাইল ফোনও সঙ্গে রাখতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতি পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে তুলেছে। তাঁর প্রশ্ন, “এটি কি হাসপাতাল, নাকি কার্যত একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ?”
তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ইন্ট্রাভেনাস (IV) দেওয়ার প্রস্তাব এলেও পরিবার আপাতত তাতে সম্মতি দেয়নি। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আন্দোলন প্রসঙ্গে গীতাঞ্জলি জে আংমো বলেন, এই পদক্ষেপে আন্দোলন থেমে যাবে না। তাঁর দাবি, গত ২০ দিনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি জানান, সোমবারের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অপরিবর্তিত থাকবে। যদি সোনম ওয়াংচুক শারীরিকভাবে মিছিলে অংশ নিতে না পারেন, তবে তাঁর পরিবর্তে তিনি নিজেই মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন।
এদিকে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।












