বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই বিজ্ঞপ্তি জারির আহ্বান ড. বসন্তকুমার গোস্বামীর
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, শিলচর: উনিশে মে ভাষা শহিদ দিবসের প্রাক্কালে বরাক উপত্যকার আবেগকে সম্মান জানিয়ে একাদশ ভাষা শহিদের সরকারি স্বীকৃতি এবং শিলচর রেলস্টেশনকে ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ হিসাবে ঘোষণার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানালেন অসম সাহিত্য সভার সভাপতি ড. বসন্তকুমার গোস্বামী।
সোমবার উনিশে মে-র প্রাক্কালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভাষা শহিদ মানে শুধু ‘বাংলা ভাষা শহিদ’ নয়। ১৯৬১ সালের ১৯ মে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শিলচর রেলস্টেশনে পুলিশের গুলিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন ১১ জন বীর সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগ কেবল একটি ভাষার জন্য নয়, মাতৃভাষার অধিকারের জন্য। ফলে একাদশ শহিদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক কর্তব্য।”
ড. গোস্বামী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক ইতিমধ্যেই শহিদ স্বীকৃতি ও ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ নামকরণের অনুমোদন দিয়ে রেখেছে। এমনকি অসম বিধানসভাতেও বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ পর্যন্ত সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন জারি হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অনুমোদনের পরেও কেন বিজ্ঞপ্তি আটকে আছে? বরাকের মানুষ আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”
রাজ্যের নবগঠিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাহিত্য সভার সভাপতি বলেন, “আসন্ন বিধানসভার প্রথম অধিবেশনেই সরকারের উচিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে একাদশ শহিদকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া এবং উনিশে মে দিনটিকে ‘ভাষা শহিদ দিবস’ হিসাবে রাজ্য সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। একইসঙ্গে শিলচর রেলস্টেশনকে অবিলম্বে ‘ভাষা শহিদ স্টেশন, শিলচর’ হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। এটা বরাকের ৪০ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবি।”
প্রসঙ্গত, ১৯৬১ সালের ১৯ মে অসমের তৎকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া অসমিয়া ভাষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শিলচর রেলস্টেশনে সত্যাগ্রহে বসেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহিদ হন কমলা ভট্টাচার্য-সহ ১১ জন। এই ঘটনার ৬৫ বছর পরেও শহিদদের সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল বারবার দাবি তুললেও ফল হয়নি। শিলচর রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তনের ফাইলও রেল বোর্ড ও রাজ্য সরকারের দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ড.বসন্তকুমার গোস্বামীর বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বরাকের সুশীল সমাজ। বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, “অসম সাহিত্য সভার সভাপতি যখন বরাকের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন সরকারের আর গড়িমসি করা উচিত নয়।”
ড.গোস্বামী তাঁর বার্তার শেষে আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বরাক উপত্যকার মানুষের আবেগ ও ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার এবার বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। উনিশে মে-র চেতনাকে সরকারি স্বীকৃতি দিলে অসমের ঐক্য ও সংহতিই আরও মজবুত হবে।”












