,

‘দেশ জুড়ে চলবে এসআইআর, অবাধ নির্বাচনে এর বিকল্প নেই’: সুপ্রিম কোর্ট

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দেশ জুড়ে এই প্রক্রিয়া চলবে এবং অবাধ নির্বাচনে এর কোনো বিকল্প নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি পাঞ্চোলি। রায়ে বেঞ্চ বলেছে, SIR প্রক্রিয়ার লক্ষ্য নির্বাচন…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দেশ জুড়ে এই প্রক্রিয়া চলবে এবং অবাধ নির্বাচনে এর কোনো বিকল্প নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি পাঞ্চোলি। রায়ে বেঞ্চ বলেছে, SIR প্রক্রিয়ার লক্ষ্য নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও মজবুত করা। এটি কার্যত গণপ্রতিনিধিত্ব আইনকে আরও কার্যকর করে তোলে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, “SIR-এর মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক লক্ষ্যের সরাসরি যোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, নির্বাচনী SIR প্রক্রিয়া অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকেই শক্তিশালী করে।”

চারটি মূল প্রশ্ন খতিয়ে দেখে রায়
বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের চালানো এই বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একগুচ্ছ মামলা হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, SIR সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে চারটি মূল প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছিল:

১. নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে কি না
২. পুরো প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত ও প্রয়োজনের তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না
৩. এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-র পরিপন্থী কি না
৪. ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে কি না

সব প্রশ্নেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR প্রক্রিয়া সাংবিধানিক এবং আইনগতভাবে টেকসই।

মামলার পটভূমি
বিহারে এসআইআর ঘোষণার পর সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রথম মামলা করে। পরে দেশের প্রায় সব বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা মামলার সঙ্গে যুক্ত হন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও ছিলেন এই মামলার অন্যতম পিটিশনার।

মামলাকারীদের মূল বক্তব্য ছিল, নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার এক্তিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নেই। পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয়, বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের ভোটারদের নাম অনৈতিক ভাবে বাদ দেওয়ার জন্যই এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

আধার কার্ড নিয়েও নির্দেশ
দীর্ঘ শুনানি চলাকালীন সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, ভোটার তালিকায় সংশোধনে বাধা না দিলেও কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাতে না যায় সে বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে আদালত। আদালতের নির্দেশেই আধার কার্ডকে এসআইআরে নথি হিসেবে গ্রহণ করা শুরু করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *