বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: শিলচরে নির্মীয়মান জেলা গ্রন্থাগার মিলনায়তন দ্রুত সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিকদের জন্য খুলে দেওয়া এবং ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে নির্মিত ওই হলটি ‘রবীন্দ্র শতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহ’ নামকরণের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর।
সোমবার, ২৬ মে ২০২৬ তারিখে কাছাড়ের জেলা কমিশনারের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্দেশে স্মারকপত্র দেয় মঞ্চ। সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার রায় স্বাক্ষরিত স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬১ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে অসমের ১৪টি জেলায় গ্রন্থাগার-সহ প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল। শিলচরের জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহটি তারই অন্যতম। তাই শিলচরের হলটিও ‘রবীন্দ্র শতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহ’ নামকরণের মাধ্যমে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হোক। মঞ্চ মনে করে, এটাই হলের প্রকৃত ঐতিহাসিক পরিচয়।
স্মারকপত্রের প্রতিলিপি শিলচরের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায় এবং উধারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালাকে পাঠানো হয়েছে।
নির্মাণে বিলম্বে উদ্বেগ
স্মারকপত্র দেওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অজয় কুমার রায় বলেন, “শিলচর জেলা গ্রন্থাগার মিলনায়তন অতিসত্বর উন্মোচনের দাবিতে আমরা এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার পত্রযোগে যোগাযোগ করেছি। মুখ্যমন্ত্রী উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে নির্মাণকাজের শ্লথ গতিতে আমরা চিন্তিত।”
তিনি জানান, উনিশে মে ভাষা শহিদ দিবসকে সামনে রেখে গত এক মাস ধরে মঞ্চ ধারাবাহিকভাবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে আসছে। “প্রতিটি পদক্ষেপে শুধুমাত্র একটি সঠিক এবং সুলভ মঞ্চের অভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনে নানাভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে,” বলেন অজয় কুমার রায়। এই পরিস্থিতিতে উন্নত পরিকাঠামোর পাশাপাশি অন্তত ২০০ আসনবিশিষ্ট একটি স্বল্প খরচের হল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে মঞ্চ।
ছোট সংগঠনের সংকট
মঞ্চের কর্মকর্তা তমালকান্তি বনিক বলেন, “শিলচরের জেলা গ্রন্থাগার মিলনায়তন এই উপত্যকার সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম পীঠস্থান ছিল।” গত পাঁচ-সাত বছরে শহরে যে দুটি বেসরকারি হল গড়ে উঠেছে, তার ব্যয়ভার বহন করা ছোট মাপের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে শহরে একমাত্র গান্ধী ভবন থাকলেও সাম্প্রতিককালে তার ভাড়া অনেক বাড়ানো হয়েছে। অথচ শব্দযন্ত্র, আলো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মতো সুযোগ-সুবিধা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই অবস্থায় ছোট সংগঠনগুলোর স্বার্থে গান্ধী ভবনের ভাড়া কমানো এবং জেলা গ্রন্থাগার হল দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত মঞ্চ।

প্রতিনিধি দলে যাঁরা ছিলেন
এদিন জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে স্মারকপত্র দিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন অজয়কুমার রায়, সঞ্জীব রায়, সত্যজিৎ বসু জয়, সুবীর ভট্টাচার্য, মনোজ কান্তি দেব, গোরা চক্রবর্তী, সন্তোষ চন্দ, চন্দন মজুমদার, দেবরাজ ভট্টাচার্য, সায়ন রায় কুটন, সীমান্ত ভট্টাচার্য, অপু সূত্রধর,শৈবাল গুপ্ত প্রমুখ।
প্রেক্ষাপট
১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে দেশজুড়ে রবীন্দ্র ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। অসমের গুয়াহাটি, ডিব্রুগড়, যোরহাট, তেজপুর-সহ ১৪টি জেলায় জেলা গ্রন্থাগার-সহ প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হয়। শিলচরের হলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই একটি সরকারি মঞ্চের অভাব বোধ করছে।












