বিহু-ঝুমুর-ধামাইলে মাতালেন অভিজিৎ বসু, বিহুর তালে নেচে উঠলেন শৈবাল গুপ্ত
৪০০ পড়ুয়ার হাতে পুরস্কার, তিল ধারণের জায়গা ছিল না হলে
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ভাষা শহিদদের স্মরণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের আয়োজনে ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ২০ মে শিলচর বঙ্গভবনে গানে-নাচে এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করল। কলকাতার আমন্ত্রিত শিল্পী অভিজিৎ বসুর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হলেন দর্শকরা।
বরাক-সিলেটের মাটির সুরে ভাসল হল
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ অভিজিৎ বসু একে একে পরিবেশন করেন বিহু, ঝুমুর, ধামাইল, বৌ-নাচের গান, বিয়ার গান, ভাদু, গোয়ালপাড়ার লোকগীতি, ভুপেন হাজারিকার কালজয়ী সৃষ্টি, রাধারমণ দত্তের গান, লালন ও হাসন রাজার বাউল এবং সিলেটের বিভিন্ন কবির লোকগান। রবীন্দ্রচেতনা, উনিশের আত্মত্যাগ আর বরাক-সিলেটের লোকজ সুর তাঁর কণ্ঠে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
বিহুর সুরে শৈবাল গুপ্তর স্বতঃস্ফূর্ত নৃত্য
বিহু গানের আবহে মঞ্চে প্রাণের ছোঁয়া আনেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের বিশেষ সদস্য শৈবাল গুপ্ত। অভিজিৎ বসুর গাওয়া বিহুর টানে তিনি নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে মঞ্চেই নেচে ওঠেন। তাঁর প্রাণবন্ত বিহু নৃত্যে গোটা হল হাততালি আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে।

অনেকেই বলেন, “উনিশের চেতনার মঞ্চে লোকসংস্কৃতির টানে শিল্পীর এই আবেগই তো বরাকের আসল রূপ। এই তো আমাদের সংস্কৃতি, যেখানে আবেগ আর আনন্দ হাত ধরাধরি করে চলে।”
৪০০ কচিকাঁচার হাতে পুরস্কার, উপচে পড়া ভিড়

নৃত্য, সঙ্গীত ও অঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার নিতে প্রায় ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী এদিন বঙ্গভবনে হাজির হয়। অভিভাবক ও দর্শকের ভিড়ে হল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তিল ধারণের জায়গা না থাকায় অনেকে দাঁড়িয়েই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে ভাষা শহিদদের রক্ত বৃথা যায়নি।
সম্মাননা ও সমাপন
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন মঞ্চের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের হৃদয়ে, আর উনিশ আমাদের চেতনায়। এই দুইয়ের মিলনেই বরাকের সংস্কৃতি।” মঞ্চের পক্ষ থেকে সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, সহ-সভাপতি মনোজ দেব ও সুবির ভট্টাচার্য শিল্পী অভিজিৎ বসু ও যন্ত্রশিল্পীদের উত্তরীয়-স্মারক দিয়ে সম্মানিত করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন পঞ্চতপা চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাধারণ সম্পাদক অজয়কুমার রায়।
আয়োজকদের বার্তা
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের কর্মকর্তারা জানান, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বরাক-সিলেটের লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। “শৈবাল গুপ্তর মতো শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর আজকের উপচে পড়া ভিড়ই বলে দেয়, উনিশের চেতনা আজও বরাকের ঘরে ঘরে জাগ্রত,” বলেন তাঁরা।












