বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সর্ব ভারতীয় ভাষা মঞ্চের পক্ষে ১৯শে মে পালন করা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙ্গা ভবনের সিনেট হলে। ১৯শে মে বেলা একটা থেকে এবং বিকেলে ভারতের রাজ্যে রাজ্যে বাঙালি উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের চক্রান্ত ও পরিযায়ী শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে কলকাতার দলমত নির্বিশেষে বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণে কলেজস্ট্রিট অঞ্চলে প্রতিবাদী মিছিল করা হয়। এ দিন ঠিক বেলা ১টায় শুরু হয় ১৯শে মে কে নিবেদিত কবি সম্মেলন। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন রঞ্জনা কবিরাজ বিশ্বাস, শহিদ স্মারক সংগীতে অংশ নেন যাদবপুর ঐকতানের শিল্পী নূপুর লোধ ও মুনমুন মাননা। এছাড়া ৫০জন কবি বাচিক শিল্পী ও সঙ্গীত শিল্পীগণ এই কবি সম্মেলনে যোগ দেন। স্বাগত ভাষণদেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে অধাপক উত্তম বিশ্বাস। তিনি উনিশের উদযাপনে বাংলা ভাষা মঞ্চের পূর্ব সূরী ঐকতান পত্রিকা (১৯৭২) ও বাংলার বাইরে বাঙালি সহায়ক সমিতি ‘সহমর্মী’ (২০০১)-র এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯৯৫থেকে ২০১২) ইতিহাস উল্লেখ করে বর্তমানের সংগঠন সর্বভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চের (২০১৩) সূত্রে নীতীশ বিশ্বাসের জীবন ব্যাপী সাধনার কথা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আশুতোষ ঘোষ বলেন মানুষ এক মাত্র মাতৃভাষাই কোনো চেষ্টা ছাড়া শিখতে পারে। আর তার ভাবনাও সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারে তার মাতৃভাষায়। জাপান যে আজ এতো উন্নত তার কারণ তারা বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারে কোনো নতুন সংযোগ হলেই তাদের ভাষায় সঙ্গে সঙ্গে তা প্রকাশ করে নেয় এবং ব্যাপক মানুষ তা চর্চা করেন। সেখানে বিজ্ঞানের পিএইচ ডি সহ সবই তারা করেন মাতৃভাষায়। বিশেষ করে বিজ্ঞানের উচ্চপাঠ্যক্রমে জাপানের মতো আমাদেরও বাংলায় প্রকাশ করতে হবে আর ছোটকাল থেকেই বাংলা ও ইংরেজি ভালো করে শেখার বিকল্প আজও কিছু নেই। মুখ্য বক্তা অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন ভাষা আন্দোলন যে কোনো ভাষার শক্তি ও অধিকার রক্ষার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। পৃথিবীতে প্রায় ১৫/১৬হাজার ভাষার মধ্যে আজ ৭ হাজারের মতো মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রবীণ সাংবাদিক ও কালান্তর দৈনিকের সম্পাদক কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, আমাদের রাজ্যে মাতৃভাষার জন্য যারা সঠিক ও বিজ্ঞানবাদী চিন্তায় আন্দোলন করেন তার মধ্যে সর্ব ভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চ অনন্য। কালান্তর তাই সতত তাদের পাশে থাকে। ভারতের মতো দেশে তারা আবেদন করেন, ১৯শে মে কে প্রতি বছর সারা ভারতে পালন করা হোক বাংলা ভাষা দিবস হিসেবে । তাদের ডাক এই আন্দোলন অন্য কোনো ভাষার পরে আগ্রাসনের জন্য নয়। একত্রে সব ভাষা ও নিজের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য। যাকে তারা বলেন ভারতে ভাষা গণতন্ত্রের আন্দোলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক সনৎকুমার নস্কর তার সুলিখিত বক্তব্যে আসামের শিলচরের এই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। এ ক্ষেত্রে ১৯শে চর্চার ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উজ্জ্বল ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সেমিনারের সূচক সম্ভাষণে অনুষ্ঠানের আহবায়ক ও মঞ্চের কেন্দ্রীয় সম্পাদক নীতীশ বিশ্বাস বলেন, সারা ভারতে বাংলা ভাষী হলেই তাকে বাংলাদেশী বলে নির্যাতন যে করছে তার প্রতিবাদ এ রাজ্যের নির্বাচনের পর কোনো সংগঠনই করছেন না। যা আমাদের মতো সর্ব ভারতীয় সামাজিক সংগঠন নিয়ত করে চলেছে। মঞ্চের মূল দাবি গুলির কয়েকটা বিগত সরকার মেনে নিলেও আজও পর্যন্ত তা কার্যকরী করেনি। যেমন রাজ্যের সব মাধ্যমের বিদ্যালয়ে একটি পেপার বাংলা আবশ্যিক ভাবে পড়নো হবে। কিন্তু হয় নি। বাংলা স্কুলের উন্নয়ণ সহ শিক্ষা ও ভাষা সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন ওড়িশায় ওড়িয়া ভাষা উন্নয়নের মন্ত্রীর মতো এ রাজ্যে বাংলা ভাষা সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতে হবে । নীতীশ বাবু সভাতে জানান ইতি মধ্যে তারা ১৬দফা দাবি পত্র সহ একটি আবেদন মাননীয় মুখ্য মন্ত্রীকে দিয়েছেন। সভায় এসে ১৯শের স্মৃতি চারণা করেন বরাক কন্যা ইন্দ্রানী দে। তিনি ওইদিন তার ঠাকুমার সঙ্গে সেই শহিদ ভূমিতে গিয়েছিলেন এবং শহিদদের দর্শন করার সৌভাগ্য তার হয়, সভার সভাপতি ভাষা সৈনিক কাজল সেন মানভূম আন্দোলনের সূত্র ধরে এখন কার হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গরিব গ্রামীণ মানুষের ব্যপক অংশগ্রহণের জন্য তিনি রাজ্যে ব্যাপক আন্দোলনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন শতবর্ষ মুখী তার জীবন এ কাজেই উৎসর্গীকৃত। সভাশেষে মঞ্চের পক্ষ থেকে ধনবাদ জানান রাজ্য নেতা নবকুমার কর্মকার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন অধ্যাপিকা যূথিকা পান্ডে ও কবি দিলীপ পাল। মিছিল পরিচালনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অমিতাভ চক্রবর্তী, গৌরী হালদার, কুন্তল ভক্ত, সন্দীপ বিশ্বাস, রত্নদীপ চক্রবর্তী, ড.দয়াল সরদার, সমর প্রামাণিক, মৌটুসি দত্ত, সুনীল চক্রবর্তী, নিতাই মান্না, দীপঙ্কর মজুমদার, বিশ্বজিত সিনহা, ড. মহুয়া বিশ্বাস, তপন রায় এই ঐতিহাসিক উদযাপনে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তিতে অংশনেন কবি শ্যামল ব্যাপারি, তপন রায়, কল্যাণী কবিরাজ, জাগৃতি ঘোষ, জয়স্মিতা ঘোষ , বিশ্বজিত সিনহা, দিলীপ পাল, ইরা চক্রবর্তী, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, মঞ্জু ঘোষ, আদৃতা মজুমদার, গৌরী হালদার, সুনীল চক্রবর্তী, অজিত মান্না, অনিমা বিশ্বাস, বীণা ভট্টাচার্য, অনিমা সরকার, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্চণা মন্ডল, অনিমা সরকার, উর্মিলা সাঊ, মীনা দাস, সঙ্গীতে যোগ দেন শিল্পী ধ্রুব হালদার, প্রদীপ ঘোষ, গোপাল চক্রবর্তী, রাজশ্রী মিত্র, যাদব পুর ঐকতানের শিল্পী নূপুর লোঢ ও মুনমুন মান্না।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এবং সর্ব ভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চের উদ্যোগে বাংলা ভাষা দিবস
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সর্ব ভারতীয় ভাষা মঞ্চের পক্ষে ১৯শে মে পালন করা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙ্গা ভবনের সিনেট হলে। ১৯শে মে বেলা একটা থেকে এবং বিকেলে ভারতের রাজ্যে রাজ্যে বাঙালি উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের চক্রান্ত ও পরিযায়ী শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে কলকাতার দলমত নির্বিশেষে বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণে কলেজস্ট্রিট অঞ্চলে প্রতিবাদী মিছিল করা হয়। এ দিন ঠিক বেলা…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












