বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, গুয়াহাটি: অসমের সরকারি ও সংরক্ষিত জমি বেদখলমুক্ত করতে এবার আরও কঠোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, রাজ্যে ১,২৫০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর এনডিএ ৩.০ সরকার। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সেই লক্ষ্য পূরণে প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমেছে বলেও জানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
এদিন নিজের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘এনডিএ ৩.০ সরকার অসমে ১,২৫০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছি।’
সেই সঙ্গে শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলা উচ্ছেদ অভিযানের ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে দেখা গেছে বুলডোজারের গর্জন, সরকারি জমি পুনর্দখলের দৃশ্য এবং কড়া নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি।
অভিযানের নেপথ্যে
গত কয়েক বছরে অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ অসম সরকারের সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে। সরকারি খাস জমি, সংরক্ষিত বনভূমি, সত্রের জমি এবং জলাশয় বেদখলমুক্ত করতে দরং, নগাঁও, হোজাই, গোয়ালপাড়া, শোণিতপুর, লখিমপুর, শ্রীভূমি সহ একাধিক জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চলছে।সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করে বসবাস, চাষাবাদ এবং পাকা নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও অবৈধ দখল বিপজ্জনকভাবে বাড়ছিল। ভূমি রক্ষা, বন সংরক্ষণ এবং খিলঞ্জিয়া মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
‘ভূমি রক্ষাই অগ্রাধিকার’
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অতীতেও বারবার বলেছেন, ‘অসমের ভূমি রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব’। তাঁর মতে, অবৈধ দখলদারি রোধ না করা গেলে ভবিষ্যতে রাজ্যের ভূমি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি বেদখলমুক্তকরণকে এনডিএ সরকার শুধু প্রশাসনিক অভিযান হিসেবে দেখছে না। একে খিলঞ্জিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা, বনভূমি রক্ষা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনুপ্রবেশ রোধের প্রশ্নে সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে।
এই ঘোষণার পর প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












