,

১৯ মে-র চেতনা নিয়ে কলকাতায় তৃতীয় বরাক-বাংলা নাট্যোৎসব: অনীকের আমন্ত্রণে যাচ্ছে শিলচরের রেস ও আজকের প্রজন্ম

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ১৯৬১ সালের ১৯ মে বরাক উপত্যকার ভাষা সংগ্রাম ও শহিদের আত্মবলিদানের ইতিহাসকে কলকাতার দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে ফের আয়োজিত হচ্ছে বরাক-বাংলা নাট্যোৎসব। কলকাতার প্রথমসারির নাট্যদল অনীক-এর উদ্যোগে এবার তৃতীয় বর্ষে পা দিল এই উৎসব। আগামী ১৮ থেকে ২০ মে কালীঘাটের ঐতিহ্যবাহী তপন থিয়েটারে চলবে তিন দিনের এই নাট্যমেলা। বরাক থেকে কলকাতার মঞ্চে দুই…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ১৯৬১ সালের ১৯ মে বরাক উপত্যকার ভাষা সংগ্রাম ও শহিদের আত্মবলিদানের ইতিহাসকে কলকাতার দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে ফের আয়োজিত হচ্ছে বরাক-বাংলা নাট্যোৎসব। কলকাতার প্রথমসারির নাট্যদল অনীক-এর উদ্যোগে এবার তৃতীয় বর্ষে পা দিল এই উৎসব। আগামী ১৮ থেকে ২০ মে কালীঘাটের ঐতিহ্যবাহী তপন থিয়েটারে চলবে তিন দিনের এই নাট্যমেলা।

বরাক থেকে কলকাতার মঞ্চে দুই দল
উৎসবে বরাক উপত্যকার প্রতিনিধিত্ব করছে শিলচরের দুটি নাট্যদল। উদ্বোধনী দিন ১৮ মে সন্ধ্যায় পয়লাপুলের রেস থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে তাদের বহু প্রশংসিত প্রযোজনা ‘ত্রিকাল পাশা’। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন ইন্দ্রনীল দে। সময়ের তিনটি স্তরকে একসূত্রে বেঁধে ইতিহাস, রাজনীতি ও মানবিক টানাপোড়েন তুলে ধরেছে এই নাটক।

১৯ মে, ভাষা শহিদ দিবসের সন্ধ্যায় মঞ্চে আসবে শিলচরের আজকের প্রজন্ম থিয়েটার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ও ঋতুপর্ণ ঘোষের চিত্রনাট্য অবলম্বনে তাদের প্রযোজনা ‘নৌকাডুবি’। নাট্যরূপ দিয়েছেন বিপ্লব দাস, নির্দেশনায় সায়ন বিশ্বাস। সম্পর্কের জটিলতা আর নিয়তির খেলাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরবে দলটি।

সমাপনী দিন ২০ মে আয়োজক অনীক মঞ্চস্থ করবে তাদের নবতম নাটক ‘আঙিনা জুড়ে ভোর’। রচনা ও নির্দেশনা ড. গৌরব দাসের। পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙাগড়া আর নতুন ভোরের স্বপ্ন এই নাটকের মূল উপজীব্য।

নাটকের সঙ্গে উনিশের স্মরণ
তিন দিনের উৎসবে প্রতিদিন একটি করে নাটকের পাশাপাশি থাকছে আলোচনা চক্র ও ভাষা শহিদ স্মরণ। ১৮ মে উদ্বোধনী সন্ধ্যায় ‘ভাষার অধিকার: অধিকারের ভাষা’ শীর্ষক বিষয়ে আলোকপাত করবেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. তীর্থঙ্কর চন্দ। এরপরই মঞ্চস্থ হবে ‘ত্রিকাল পাশা’।

১৯ মে সন্ধে ৬টা থেকে আয়োজন করা হয়েছে ‘ভাষা শহিদ স্মরণ’ অনুষ্ঠানের। একষট্টির ১৯ মে শিলচর স্টেশনে বাংলা ভাষার দাবিতে পুলিশের গুলিতে শহিদ হওয়া ১১ জন ভাষা সেনানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। স্মরণ অনুষ্ঠানের পরই শুরু হবে ‘নৌকাডুবি’।

কেন এই উৎসব
অনীকের অন্যতম কর্ণধার অরূপ রায় জানান, “বরাকের সঙ্গে বাংলার একটা সাংস্কৃতিক সেতু তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। শুধু নাট্য বিনিময় নয়, উনিশে মে-র চেতনা, ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস কলকাতার নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।” ২০২৪ সালে প্রথমবার এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করে অনীক। বরাক-বাংলার নাট্য যোগসূত্র গড়ার ভাবনার নেপথ্যে ছিলেন কলকাতার আশিস গোস্বামী ও শিলচরের নাট্যকর্মী নিখিল পাল। সঙ্গে ছিলেন অনীকের অভিজিৎ সেনগুপ্ত। প্রথম বছরের সাফল্যের পর গত বছর থেকে উৎসবটি সরাসরি ১৯ মে-কে কেন্দ্র করে হচ্ছে। এর আগে এই মঞ্চে নাটক করেছে শিলচরের গণসুর, নন্দিনী পাঠচক্র, রূপম এবং শ্রীভূমির বিশ্ববীণা নাট্য সংস্থা। প্রতিবারই কলকাতার দর্শকদের বিপুল সাড়া মিলেছে।

প্রস্তুত বরাকের দুই দল
রেস থিয়েটারের দলনেতা জানালেন, “কলকাতার মঞ্চে বরাকের কথা বলতে পারা আমাদের কাছে গর্বের। ত্রিকাল পাশা দিয়ে আমরা সময়ের কথা, প্রতিরোধের কথা বলি।” আজকের প্রজন্মের নির্দেশক সায়ন বিশ্বাস বলেন, “১৯ মে-র দিনে নৌকাডুবি মঞ্চস্থ করা আমাদের কাছে আলাদা আবেগের। ভাষা শহিদদের স্মরণ করেই আমরা মঞ্চে উঠব।” তিন দিনের এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যে কলকাতার নাট্যমহলে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অগ্রিম টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *