বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, কলকাতা: ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্টেটাস’ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
কী জানতে চায় বিসিআই?
বিসিআই-এর চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম কবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ঠিক কবে আইনজীবী হিসাবে মমতার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, কবে পেশা স্থগিত হয়েছিল এবং কবে পুনরায় শুরু করেছেন, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে। মমতার আইনি পেশার শংসাপত্রও দেখতে চেয়েছে তারা। আগামী দু’দিনের মধ্যে ওই সমস্ত তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া।
হাইকোর্টে আইনজীবী মমতা
বৃহস্পতিবার পুরোদস্তুর আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন মমতা। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার উচ্চ আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে মমতা জানান, ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। তার পর থেকে নিয়মিত সদস্যপদ নবীকরণ করে আসছেন। আদালতে মমতা বলেন, “মানুষের জন্য আইনি যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে আমি এসেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের প্রায় ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ঘটনা ঘটেছে। প্রাক্তন পুলিশমন্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নিজের এলাকার উদাহরণ দিয়ে জানান, পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে পারছেন না, অনলাইনে অভিযোগ করতে হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির এজলাসে তিনি বলেন, “রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। পশ্চিমবঙ্গ কোনও বুলডোজার রাজ্য নয়।”
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি
তবে আদালত থেকে বেরোনোর সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মমতাকে ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন কয়েকজন। বিজেপির দাবি, এই কাজ তৃণমূলই করেছে। দলের বক্তব্য, একজন মহিলা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। যদিও মমতার সঙ্গী আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঙুল শাসকদলের দিকে।
আগেও আদালতে, তবে সওয়াল নয়
এর আগে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তবে আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করেননি। তার আগে রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় আইনজীবী হিসাবে লড়েছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি জানান, আইনজীবী হিসাবে আবার ‘লড়াই’ শুরু করবেন।












