বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন,কলকাতা: নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের পুরনো পেশায় ফিরলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করতে পৌঁছলেন তিনি। বুধবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে আইনজীবীর পোশাকেই বের হন মমতা। হাইকোর্টে ঢোকার আগে গায়ে গলিয়ে নেন কোর্ট। এরপর সটান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে পৌঁছে যান। সেখানে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর নিয়ে সওয়াল করেন তিনি।
শীর্ষণ্যর মামলায় সওয়াল
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় এদিন আদালতে যান মমতা। কল্যাণের পর আইনজীবী হিসেবেই সওয়াল করেন তিনি। সওয়ালের শুরুতেই মমতা জানান, “১৯৮৫ সাল থেকে আমি আইনজীবী। সেই হিসেবেই সওয়াল করতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, ৯২ বছরের বৃদ্ধ থেকে ১৮-র তরুণ-তরুণী, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতিদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে অভিযোগ জানিয়েও কাজ হচ্ছে না বলে দাবি করেন।
‘এটা বুলডোজার রাজ্য নয়’
তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের পর শহরে বুলডোজার নামিয়ে বাড়ি ভাঙার তীব্র বিরোধিতা করেন মমতা। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। এটা বুলডোজার রাজ্য নয়।” সদ্য বিবাহিত ১৮ বছরের তরুণীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।
কল্যাণের অভিযোগ
আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, খেজুরি, ডোমজুড়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস, দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের ১৫০-১৬০টি কার্যালয়ে আগুন ধরানো হয়েছে, রাজ্য জুড়ে ভাঙচুর চলছে। ৪০০ বছরের পুরনো হগ মার্কেটে বুলডোজার চালানোর কথাও তুলে ধরেন। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার প্রসঙ্গে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। আবেদন জানানো হয়, আদালতের নির্দেশ ছাড়া যেন এ রাজ্যে বুলডোজার না চালানো হয়।












