,

‘বিধিনিষেধ’ জল্পনা ওড়াল নেপাল, চাপে পড়ে বিবৃতি: ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট’

কাঠমাণ্ডু: ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে ছড়ানো ‘একগুচ্ছ বিধিনিষেধ’-এর জল্পনা এক বিবৃতিতেই উড়িয়ে দিল নেপাল। বুধবার নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানাল, দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং পর্যটন সহযোগিতা আজও শক্তিশালী ও অপরিবর্তিত। আন্তর্জাতিক মহল ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে পড়েই তড়িঘড়ি এই বিবৃতি দিল কাঠমাণ্ডু। কী নিয়ে জল্পনা? গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল…

কাঠমাণ্ডু: ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে ছড়ানো ‘একগুচ্ছ বিধিনিষেধ’-এর জল্পনা এক বিবৃতিতেই উড়িয়ে দিল নেপাল। বুধবার নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানাল, দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং পর্যটন সহযোগিতা আজও শক্তিশালী ও অপরিবর্তিত। আন্তর্জাতিক মহল ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে পড়েই তড়িঘড়ি এই বিবৃতি দিল কাঠমাণ্ডু।

কী নিয়ে জল্পনা?
গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠছিল, ভারতীয় পর্যটকের ঢল ঠেকাতে কড়া হচ্ছে নেপাল। রটে যায়, সীমান্ত পেরোতে এবার বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র লাগবে। নেপালে ৩০ দিনের বেশি থাকা যাবে না। অতিরিক্ত দিন থাকলেই বাজেয়াপ্ত হবে গাড়ি। এমনকী ১০০ নেপালি রুপির বেশি কেনাকাটায় দিতে হবে ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক।

নেপালের স্পষ্ট জবাব
এই সব খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। বিবৃতিতে তারা গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ভারতীয় পর্যটকদের থাকার সময়সীমা নিয়ে নেপাল সরকার কোনও নির্দেশিকাই জারি করেনি। নতুন কোনও নীতিও চালু হয়নি। নেপাল-ভারতের উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া আগের মতোই বহাল আছে। বোর্ডের কথায়, “দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন অটুট। পর্যটন সহযোগিতায় কোনও বদল আসেনি।”

আসলে বদলটা কোথায়?
নেপাল জানাচ্ছে, ভ্রমণ কঠিন নয়, বরং আরও সহজ করা হয়েছে। নতুন অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে স্থলপথে নেপালে ঢোকা ভারতীয় পর্যটকদের জন্য সুবিধা বেড়েছে। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে যানবাহনের শুল্ক মেটানো যাবে, মিলবে ডিজিটাল প্রবেশপত্র।

এপ্রিলের নিয়ম ঘিরে বিভ্রান্তি
গত এপ্রিলে নেপাল জানায়, ভারতীয় গাড়ি নিয়ে ঢুকতে হলে সীমান্তে নথিভুক্ত করতে হবে, বৈধ পারমিট লাগবে। বছরে ৩০ দিনের বেশি নেপালের রাস্তায় ভারতীয় গাড়ি রাখা যাবে না। প্রতিদিনের জন্য গুনতে হবে মাশুল। নিয়ম ভাঙলে গাড়ি বাজেয়াপ্তও হতে পারে। তবে নেপাল এদিন স্পষ্ট করেছে, এই ৩০ দিনের সীমা কেবল যানবাহনের জন্য, পর্যটকের জন্য নয়। গাড়ি-সংক্রান্ত পুরনো নিয়মকেই ঘুরিয়ে ‘পর্যটকদের উপর বিধিনিষেধ’ বলে প্রচার করা হচ্ছিল। পর্যটনই নেপালের অর্থনীতির অন্যতম ভরসা। আর ভারতীয় পর্যটক সেই বাজারের বড় অংশ। তাই বিভ্রান্তি ছড়াতেই নড়েচড়ে বসে কাঠমাণ্ডু। কূটনৈতিক চাপ ও ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় দ্রুত বিবৃতি দিয়ে জল ঘোলা হওয়ার আগেই পরিস্থিতি সামাল দিল নেপাল সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *