করাচি: জনপ্রিয় গান ‘পাসুরি’র সেই পরিচিত মুখ, পাকিস্তানের প্রখ্যাত ভরতনাট্যম শিল্পী ও সমাজকর্মী সীমা কেরমানিকে আটক করেছে করাচি পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) করাচি প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে আসন্ন ‘অরাত মার্চ’ বা নারী অধিকার পদযাত্রার অনুমতি চাইতে গিয়ে তিনি পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁর আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও পাকিস্তানজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
কী ঘটেছিল?
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দিনে আয়োজিত হতে যাওয়া নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মসূচি ‘অরাত মার্চ’-এর জন্য অনাপত্তি সনদ বা এনওসি চেয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল আয়োজক দলটি। সম্মেলন চলাকালে সিন্ধু পুলিশ অতর্কিতে অভিযান চালিয়ে সীমা কেরমানিসহ অরাত মার্চের ৭ জন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।
কে এই সীমা কেরমানি?
সীমা কেরমানি কেবল একজন শিল্পীই নন, তিনি পাকিস্তানের রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রসারে এক অদম্য সৈনিক। তিনি ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে ‘তেহরিক-ই-নিসওয়ান’ নামে একটি সাংস্কৃতিক অ্যাকশন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন, যা সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নারী অধিকার, থিয়েটার এবং শিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানে ভরতনাট্যমের মতো শাস্ত্রীয় নৃত্য টিকিয়ে রাখার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বজুড়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান কোক স্টুডিও পাকিস্তানের জনপ্রিয় গান ‘পাসুরি’তে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।
প্রতিবাদের মুখে মুক্তি
সীমা কেরমানির মতো একজন প্রবীণ ও সম্মানিত শিল্পীকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেটদুনিয়ায় প্রতিবাদের পাহাড় জমে ওঠে। অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ পুলিশের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং প্রতিবাদের মুখে সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লানজার দ্রুত হস্তক্ষেপে কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁকে ও অন্য কর্মীদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। পাকিস্তানের নারী অধিকার আন্দোলনের লড়াকু এই সৈনিক মুক্ত হলেও, এই ঘটনা আবারও দেশটির শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা ও নারীর বাকস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতাকে বিশ্বের দরবারে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।












