,

৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে বৈঠকে কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা

নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ সব দিক খতিয়ে দেখলেন জেলা আয়ুক্ত জনসংযোগ। শিলচর : ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে কাছাড় জেলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার শিলচরে নিজের কার্যালয়ে এক বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠকে পৌরোহিত্য করলেন কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএএস। স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাগরিক…

নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ সব দিক খতিয়ে দেখলেন জেলা আয়ুক্ত

জনসংযোগ। শিলচর : ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে কাছাড় জেলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার শিলচরে নিজের কার্যালয়ে এক বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠকে পৌরোহিত্য করলেন কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএএস। স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাগরিক পরিষেবা, সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সব দিকই বৈঠকে খতিয়ে দেখা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা উন্নয়ন আয়ুক্ত রাজীব রায়, এ.সি.এস., অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত যথাক্রমে ডেভিড কুমার বরা, এসিএস, মনোজ্যোতি কুটুম এসি এস, ধলাই সম জেলা আয়ুক্ত, রক্তিম বড়ুয়া এসি এস এবং জেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা, পুরসভা কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন লাইন দফতরের আধিকারিকরা। স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির প্রস্তুতির অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন জেলা আয়ুক্ত ।

বৈঠকে জিলা ক্রিড়া সংস্থার ময়দানে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন-সহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। ভিআইপি রুটের দু’পাশের বহুতল ভবনগুলিতে সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানকে ঘিরে সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং অসম পুলিশের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের সমন্বিত টহলদারির ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়।

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে জেলার সমস্ত পুরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল, গুরুত্বপূর্ণ জনস্থান এবং নির্দিষ্ট রুটগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি যথাযথ ব্যারিকেডিং এবং জিলা ক্রিয়া সংস্থার ময়দান ও ভিআইপি রুট স্যানিটাইজ করার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়। অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বা এপিডিসিএল-কে অনুষ্ঠান চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সরকারি বিভাগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। সমস্ত বিভাগীয় কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এদিকে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিষেবা যাতে কোনও ভাবে ব্যাহত না হয় এবং অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা পরিষেবা, পানীয় জল এবং অনুষ্ঠান উপলক্ষে খাদ্য প্যাকেটের ব্যবস্থাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। কাছাড়ের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয় এবং সার্কিট হাউস-সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলির আলোকসজ্জার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্বাধীনতা দিবসের আগেই প্রয়োজনীয় সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কাছাড় জেলায় চলতি ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রচারাভিযানের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন জেলাশাসক। দেশাত্মবোধক এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জেলাজুড়ে ইতিমধ্যেই এই প্রচারাভিযান গতি পেয়েছে। গত ৯ আগস্ট সফল ভাবে আয়োজিত হয়েছে তিরঙ্গা বাইক র‌্যালি। পাশাপাশি ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চলছে অঙ্কন, প্রবন্ধ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি।

উল্লেখ্য, ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে ঘিরে বিভিন্ন স্তরে কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

এদিনের বৈঠকে আগামী তিরঙ্গা র‌্যালির প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়। জিলা ক্রিড়া সংস্থার ময়দান থেকে গান্ধী বাগ পার্ক পর্যন্ত এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এই র‌্যালিতে অংশ নেবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রচারাভিযানের ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচিও সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার আবেগকে আরও প্রসারিত করবে।

এর পাশাপাশি, আগামী ১৪ আগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলেছে। দেশভাগের সময় মানুষের দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি এবং আত্মত্যাগের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই এই কর্মসূচি পালন করা হবে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জেলার কর্মসূচির তালিকায় এই স্মরণদিবসও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্বাধীনতা দিবসের আগে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পুরসভা, নিরাপত্তা সংস্থা এবং অন্যান্য বিভাগের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উঠে আসে। জেলা আয়ুক্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগগুলিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তৃনমুল পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় ও নজরদারি বজায় রাখার কথাও বলা হয়, যাতে প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি থাকলে তা সময় থাকতেই পূরণ করা যায়।

এদিকে, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে গোটা কাছাড় জুড়েই প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। মূল সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রচারাভিযানের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পতাকাকে ঘিরে এই জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে স্বাধীনতা দিবসের আবহ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।

শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে সমস্ত বিভাগ ও সংস্থাকে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি কাজ সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান যাতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *